Text size A A A
Color C C C C
Last updated: 23rd March 2020

Frequently Asked Questions (FAQs) of DMTCL

হালনাগাদের তারিখ: ০১ মার্চ ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

 

ক্রম জিজ্ঞাস্য উত্তর

১.

ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) বা মেট্রোরেল কী?

ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) বা মেট্রোরেল মহানগরী ও তৎসংলগ্ন পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য রেলভিত্তিক একত্রে অধিক যাত্রী পরিবহনে সক্ষম একটি অত্যাধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা। এমআরটি বা মেট্রোরেল উড়াল অথবা পাতাল অথবা উড়াল ও পাতাল সমন্বয়ে গঠিত দূরনিয়ন্ত্রিত দ্রুতগামী, নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, সময়-সাশ্রয়ী, বিদ্যুৎ চালিত ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন। মেট্রোরেল জনবহুল মহানগরীর যানজট নিরসনে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। মেট্রোরেলের স্টেশনসমূহ কম-বেশি এক কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত হয় বিধায় স্টেশনের ৫০০ (পাঁচশত) মিটার পরিধির মধ্যে অবস্থিত জনসাধারণ হেঁটে মেট্রো স্টেশনে এসে মেট্রোরেলে যাতায়াত করতে পারেন।

২.

মেট্রোরেল বাস্তবায়নকারী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কোনটি এবং এর কর্মপরিধি কী?

ঢাকা মহানগরী ও তৎসংলগ্ন পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসনে ও পরিবেশ উন্নয়নে অত্যাধুনিক গণপরিবহন হিসেবে Mass Rapid Transit (MRT) বা মেট্রোরেলের পরিকল্পনা, সার্ভে, ডিজাইন, অর্থায়ন, নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের নিমিত্ত গত ০৩ জুন ২০১৩ তারিখ শতভাগ সরকারি মালিকানাধীন Dhaka Mass Transit Company Limited (DMTCL) গঠন করা হয়।

রূপকল্প

বাঁচবে সময়, বাঁচবে পরিবেশ
যানজট কমাবে মেট্রোরেল

অভিলক্ষ্য

দ্রুতগামী, নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, সময় সাশ্রয়ী, বিদ্যুৎচালিত, পরিবেশবান্ধব ও দূরনিয়ন্ত্রিত অত্যাধুনিক গণপরিবহণ ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরী ও তৎসংলগ্ন পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসন।  

৩.

মেট্রোরেল নির্মাণে সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০ কী?

সরকার ৬ (ছয়) টি মেট্রোরেল সমন্বয়ে ঢাকা মহানগরী ও তৎসংলগ্ন পার্শ্ববর্তী এলাকায় মোট ১২৮.৭৪১ কিলোমিটার (উড়াল ৬৭.৫৬৯ কিলোমিটার এবং পাতাল ৬১.১৭২ কিলোমিটার) দীর্ঘ ও ১০৪ স্টেশন (উড়াল ৫১ এবং পাতাল ৫৩) বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার নিমিত্ত নিম্নোক্ত সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০ গ্রহণ করেছে:

সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০

ক্রম

এমআরটি লাইনের নাম

পর্যায়

সম্ভাব্য সমাপ্তির সাল

ধরণ

১.

এমআরটি লাইন-৬

প্রথম

২০২৪

উড়াল

২.

এমআরটি লাইন-১

দ্বিতীয়

২০২৬

উড়াল ও পাতাল

৩.

এমআরটি লাইন-৫: নর্দার্ন রুট

২০২৮

৪.

এমআরটি লাইন-৫: সাউদার্ন রুট

তৃতীয়

২০৩০

৫.

এমআরটি লাইন-২

৬.

এমআরটি লাইন-৪

উড়াল

 

সুনির্দিষ্ট যাত্রী চাহিদা সার্ভের ভিত্তিতে বাস্তবায়নের পর্যায় ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে।

৪.

সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০-এ অন্তর্ভুক্ত  ৬টি মেট্রোরেলের রুট বিন্যাস কী?

সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০-এ অন্তর্ভুক্ত ৬টি মেট্রোরেলের রুট হল:

 

MRT Line-6

উত্তরা উত্তর - উত্তরা সেন্টার - উত্তরা দক্ষিণ -  পল্লবী -  মিরপুর ১১ - মিরপুর ১০ - কাজীপাড়া - শেওড়াপাড়া - আগারগাঁও - বিজয় সরণি - ফার্মগেট - কারওয়ান বাজার - শাহবাগ - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় - বাংলাদেশ সচিবালয় - মতিঝিল*

* মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণে MRT Line-6 মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১.১৬ কিলোমিটার বর্ধিত করার উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন আছে।

MRT Line-1

বিমানবন্দর রুটের এ্যালাইনমেন্ট: বিমানবন্দর - বিমানবন্দর টার্মিনাল ৩ - খিলক্ষেত - যমুনা ফিউচার পার্ক - নতুন বাজার - উত্তর বাড্ডা - বাড্ডা - হাতিরঝিল পূর্ব - রামপুরা - মালিবাগ - রাজারবাগ - কমলাপুর

পূর্বাচল রুটের এ্যালাইনমেন্ট: নতুন বাজার - যমুনা ফিউচার পার্ক - বসুন্ধরা - পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি (পিওএইচএস) - মাস্তুল - পূর্বাচল পশ্চিম - পূর্বাচল সেন্টার - পূর্বাচল পূর্ব - পূর্বাচল টার্মিনাল - পিতলগঞ্জ ডিপো

MRT Line-5: Northern Route

হেমায়েতপুর - বালিয়ারপুর - বিলামালিয়া - আমিনবাজার - গাবতলী - দারুস সালাম - মিরপুর ১ - মিরপুর ১০ - মিরপুর ১৪ - কচুক্ষেত - বনানী - গুলশান ২ - নতুন বাজার - ভাটারা

MRT Line-5: Southern Route

গাবতলী - টেকনিক্যাল - কল্যাণপুর - শ্যামলী - কলেজ গেইট - আসাদ গেইট - রাসেল স্কয়ার - পান্থপথ - সোনারগাঁ - হাতিরঝিল পশ্চিম - নিকেতন - রামপুরা - আফতাব নগর পশ্চিম - আফতাব নগর সেন্টার -আফতাব নগর পূর্ব - দাশেরকান্দি

MRT Line-2

গাবতলী - Embankment Road - বসিলা - মোহাম্মদপুর বিআরটিসি বাস স্ট্যান্ড - সাত মসজিদ রোড - ঝিগাতলা - ধানমন্ডি ২ নম্বর রোড - সাইন্স ল্যাবরেটরি - নিউ মার্কেট - নীলক্ষেত - আজিমপুর - পলাশী - শহীদ মিনার - ঢাকা মেডিকেল কলেজ - পুলিশ হেডকোয়ার্টার - গোলাপ শাহ মাজার - বঙ্গ ভবনের উত্তর পার্শ্বস্থ সড়ক - মতিঝিল - আরামবাগ - কমলাপুর - মুগদা - মান্ডা - ডেমড়া - চট্টগ্রাম রোড

MRT Line-4

কমলাপুর - নারায়ণগঞ্জ

৫.

সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০-এ অন্তর্ভুক্ত ৬টি মেট্রোরেলের দৈর্ঘ্য ও স্টেশনসমূহের বিন্যাস কিরূপ?

সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০-এ অন্তর্ভুক্ত ৬টি মেট্রোরেলের দৈর্ঘ্য ও স্টেশনসমূহের বিন্যাস হল:

এমআরটি লাইনসমূহের নাম

দৈর্ঘ্য (কিলোমিটার)

স্টেশন সংখ্যা

মোট

উড়াল

পাতাল

মোট

উড়াল

পাতাল

এমআরটি লাইন-৬

২০.১০

২০.১০

-

১৬

১৬

-

এমআরটি লাইন-১

৩১.২৪১*

১১.৩৬৯

১৯.৮৭২

২১

০৭

১৪

এমআরটি লাইন-৫: নর্দার্ন রুট

২০.০০

০৬.৫০

১৩.৫০

১৪

০৫

০৯

এমআরটি লাইন-৫: সাউদার্ন রুট

১৭.৪০

০৪.৬০

১২.৮০

১৬

০৪

১২

এমআরটি লাইন-২

২৪.০০

০৯.০০

১৫.০০

২২

০৪

১৮

এমআরটি লাইন-৪

১৬.০০

১৬.০০

-

১৫

১৫

-

সর্বমোট

১২৮.৭৪১

৬৭.৫৬৯

৬১.১৭২

১০৪

৫১

৫৩

* বিমানবন্দর রুট (বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর) এর মোট দৈর্ঘ্য ১৯.৮৭২ কিলোমিটার এবং মোট পাতাল স্টেশন সংখ্যা ১২টি। পূর্বাচল রুট (নতুন বাজার থেকে পিতলগঞ্জ ডিপো) এর মোট দৈর্ঘ্য ১১.৩৬৯ কিলোমিটার। সম্পূর্ণ অংশ উড়াল এবং মোট স্টেশন সংখ্যা ৯টি। তন্মধ্যে ৭টি স্টেশন হবে উড়াল। নতুন বাজার ও যমুনা ফিউচার পার্ক স্টেশনদ্বয় বিমানবন্দর রুটের অংশ হিসেবে পাতাল নির্মিত হবে।  

৬.

ডিএমটিসিএল বর্তমানে কয়টি মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এবং এগুলো কী কী?

সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০ এর অন্তর্ভুক্ত ৬ (ছয়) টি মেট্রোরলের মধ্যে ৫ (পাঁচ) টি মেট্রোরেল নির্মাণের নিমিত্ত ডিএমটিসিএল নিম্নোক্ত প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়ন করছে:  

  • Dhaka Mass Rapid Transit Development Project (Line-6)
  • Dhaka Mass Rapid Transit Development Project (Line-1) [E/S]
  • Dhaka Mass Rapid Transit Development Project (Line-1)
  • Dhaka Mass Rapid Transit Development Project (Line-5): Northern Route
  • Dhaka Mass Rapid Transit Development Project (Line-5): Southern Route [PRF]
  • Dhaka Mass Rapid Transit Development Project (Line-2)

 

এছাড়া, ২০৩০ সালের মধ্যে কমলাপুর - নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে ট্রাকের পার্শ্ব দিয়ে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ উড়াল মেট্রোরেল হিসেবে MRT Line-4 নির্মাণের উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন আছে।

৭.

সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০ যানজট নিরসনে ও পরিবেশ উন্নয়নে কী ভূমিকা রাখবে?

সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০ অনুযায়ী ০৬ টি এমআরটি লাইন বা মেট্রোরেল নির্মাণ সম্পন্ন হলে ২০৩০ সালে দৈনিক 50,40,489 (পঞ্চাশ লক্ষ চল্লিশ হাজার চারশত ঊনানব্বই) জন যাত্রী মেট্রোরেল ব্যবহার করে যাতায়াত করতে পারবেন:

১.

এমআরটি লাইন-৬

6,77,300

২.

এমআরটি লাইন-১

8,92,400

৩.

এমআরটি লাইন-৫: নর্দার্ন রুট

10,24,803

৪.

এমআরটি লাইন-৫: সাউদার্ন রুট

9,24,409

৫.

এমআরটি লাইন-২

10,84,600

৬.

এমআরটি লাইন-৪

4,36,977

মোট=

50,40,489

মেট্রোরেলে অল্প সময়ে অধিক সংখ্যায় যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। ছোট ছোট যানবাহনের ব্যবহার ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে। জীবাশ্ম জ্বালানীর ব্যবহার বহুলাংশে কমে যাবে। ঢাকা মহানগরীর যাতায়াত ব্যবস্থায় ভিন্ন মাত্রা ও গতি যোগ হবে। যানজট বহুলাংশে হ্রাস পাবে। মহানগরবাসীর কর্মঘন্টা সাশ্রয় হবে। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সাশ্রয়কৃত কর্মঘন্টা ব্যবহার করা যাবে। GDP Growth Rate বৃদ্ধি পাবে।

মেট্রোরেল সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ চালিত বিধায় কোন ধরণের জীবাশ্ম ও তরল জ্বালানী ব্যবহৃত হবে না। ফলে বায়ু দূষণ হওয়ার কোন সুযোগ নেই। Railway Track এর নিচে Mass Spring System (MSS) থাকবে। Continuous Welded Rail (CWR) ব্যবহার করা হবে। উড়াল মেট্রোরেলের ভায়াডাক্টের উভয় পার্শ্বে শব্দ প্রতিবন্ধক দেয়াল থাকবে এবং পাতাল মেট্রোরেলের টানেল সংলগ্ন মাটি শব্দ প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করবে। ফলশ্রুতিতে মেট্রোরেলে শব্দ ও কম্পন দূষণ মাত্রা মানদন্ড সীমার অনেক নিচে থাকবে। সার্বিকভাবে পরিবেশ দূষণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বরং পরিবেশ উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

৮.

মেট্রোরেলের ৬টি রুটের মধ্যে কোন কোন স্টেশনে আন্ত:সংযোগ থাকবে?

মেট্রোরেলের ৬টি রুটের মধ্যে নিম্নলিখিত স্টেশনসমূহে আন্তঃসংযোগ থাকবে:

১। মিরপুর ১০ (এমআরটি লাইন-৬ ও এমআরটি লাইন-৫: নর্দার্ন রুট)

২। গাবতলী (এমআরটি লাইন-৫: নর্দার্ন রুট, এমআরটি লাইন-৫: সাউদার্ন রুট এবং এমআরটি লাইন-২)

৩। কারওয়ান বাজার (এমআরটি লাইন-৬ এবং এমআরটি লাইন-৫: সাউদার্ন রুট)

৪। কমলাপুর (এমআরটি লাইন-৬, এমআরটি লাইন-১, এমআরটি লাইন-২ এবং এমআরটি লাইন-৪)

৫। নতুন বাজার (এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫: নর্দার্ন রুট)

৬। রামপুরা (এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫: সাউদার্ন রুট)

৯.

জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে মেট্রোরেলের অবদান কিরূপ?

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু। দেশের সম্পূর্ণ জিডিপিতে ঢাকার অবদান প্রায় ৩৬ শতাংশ। ঢাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় এ মহানগরীর জনসংখ্যা ২০০০ সালে ১ কোটি ২ লক্ষ ৮০ হাজার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৮ সালে ১ কোটি ৯৮ লক্ষ ৪০ হাজার হয়েছে। ঢাকার জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৪৬,৯৯৭ জন। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ২০১০ সালে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ৫,৯৩,০৭৭ টি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে জানুয়ারি ২০২০ মাসে ১৫,৪১,৭৮৫ টিতে উন্নীত হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর সড়ক ঘনত্ব ৬.১২ কিলোমিটার/কিলোমিটার। এতে মহানগরীর যানজট তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং ক্রমাবনতী হচ্ছে। এ যানজট এবং এর ফলশ্রুত প্রভাবে বার্ষিক প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞগণ অভিমত ব্যক্ত করছেন। সর্বশেষ উপাত্ত থেকে দেখা যায় যে, বর্ষা মৌসুমে বায়ুতে গড় Particulate Matter (PM)2.5 এর মাত্রা ২৫ µg/m3 থেকে ১১০ µg/m3 এবং শুষ্ক মৌসুমে বায়ুতে গড় Particulate Matter (PM)2.5 এর মাত্রা ১০০ µg/m3 থেকে ১৫০ µg/m3 যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানমাত্রা (২০ μg/m3 – ৭০ μg/m3) থেকে অনেক বেশি।  এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে।

সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০ অনুযায়ী ০৬ টি এমআরটি লাইন বা মেট্রোরেল নির্মাণ সম্পন্ন হলে ২০৩০ সালে দৈনিক 50,40,489 জন যাত্রী মেট্রোরেল ব্যবহার করে যাতায়াত করতে পারবেন। ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর এমআরটি লাইন-৬ বা বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেল চালু হলে দৈনিক ৫ লক্ষ যাত্রী মেট্রোরেল ব্যবহার করে চলাচল করতে পারবেন। ২০২৬ সালে এমআরটি লাইন-১ বা বাংলাদেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল চালু হলে দৈনিক আরও ৮ লক্ষ যাত্রী মেট্রোরেলে যাতায়াত করতে পারবেন। অল্প সময়ে অধিক সংখ্যায় যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। ছোট ছোট যানবাহনের ব্যবহার ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে। জীবাশ্ম ও তরল জ্বালানীর ব্যবহার বহুলাংশে কমে যাবে। ঢাকা মহানগরীর যাতায়াত ব্যবস্থায় ভিন্ন মাত্রা ও গতি যোগ হবে। যানজট বহুলাংশে হ্রাস পাবে। মহানগরবাসীর কর্মঘন্টা সাশ্রয় হবে। যানজট এবং এর ফলশ্রুত প্রভাবে যে ক্ষতি হচ্ছে তা সাশ্রয় হবে। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সাশ্রয়কৃত কর্মঘন্টা ও অর্থ ব্যবহার করা যাবে। GDP Growth Rate বৃদ্ধি পাবে।

১০.

সরকারের সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০ পরবর্তী পরিকল্পনা কী?

সরকারের সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০ অনুযায়ী নারায়নগঞ্জ জেলাকে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হচ্ছে। ২০৩০ পরবর্তী প্রথম পর্যায়ের পরিকল্পনায় গাজীপুর জেলাকে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। ২০৩০ পরবর্তী দ্বিতীয় পর্যায়ে নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ জেলাকে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০ পরবর্তী পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ঢাকা মহানগরীর সঙ্গে ঢাকা জেলার পার্শ্ববর্তী ০৫ টি জেলাকে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করা।   

১১.

ঢাকা মহানগরী ও সংলগ্ন পার্শ্ববর্তী এলাকার বাহিরে বিভাগীয় মহানগরীতে মেট্রোরেল নির্মাণের কোন পরিকল্পনা আছে কী?

চট্টগ্রাম বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী। চট্টগ্রাম মহানগরীর যানজট পরিস্থিতি ধারাবাহিকভাবে অবনতি হচ্ছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর যানজট নিরসনে ও পরিবেশ উন্নয়নের নিমিত্ত চট্টগ্রাম মহানগরীতে Mass Rapid Transit (MRT) বা মেট্রোরেল প্রবর্তন করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে Japan International Cooperation Agency (JICA) এর Technical Assistance এর আওতায় Mass Rapid Transit (MRT) Lines সমন্বয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর জন্য একটি সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নিমিত্ত সরকারের নিকট প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে।

১২.

ডিএমটিসিএল এবং এর আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহে সরাসরি জনবল নিয়োগের পদ্ধতি কী?

ডিএমটিসিএল এবং এর আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সরাসরি জনবল নিয়োগ করা হয়ে থাকে। এ জন্য ন্যূনতম একটি বাংলা জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় এবং একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রদান করা হয়। এছাড়াও ডিএমটিসিএল এর ওয়েবসাইট www.dmtcl.gov.bd এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ওয়েবসাইট www.rthd.gov.bd -তে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আপলোড করা হয়। প্রাপ্ত আবেদন ও সংযুক্তিসমূহ যাচাই বাছাই করে লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। চূড়ান্ত তালিকার ভিত্তিতে প্রার্থীগণকে প্রথমে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। মৌখিক পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রার্থীকে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোম্পানির নির্ধারিত মনোবিজ্ঞানী/প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গৃহিত মনস্তাত্বিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। লিখিত, মৌখিক ও মনস্তাত্বিক পরীক্ষায় (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) উত্তীর্ণ প্রার্থীদের যৌথ মেধাক্রম প্রস্তুত করা হয়। শুন্য পদের বিপরীতে মেধাক্রম অনুযায়ী নিয়োগ প্রদান করা হয়। নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীকে কোম্পানির নির্ধারিত চিকিৎসক/চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নির্ধারিত ফরমে সন্তোষজনক পুলিশ প্রতিবেদন প্রাপ্তিসাপেক্ষে নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়। অন্যান্য বিষয়াদি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং নিয়োগ পত্র অনুযায়ী নির্ধারিত হয়ে থাকে। ব্যক্তিগত যোগাযোগ বা সুপারিশের ভিত্তিতে জনস্বার্থে কোন নিয়োগ প্রদান করা হয় না।

১৩.

বাংলাদেশের পূর্ব-পশ্চিম MRT Corridor-গুলো কী কী?

সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০ অনুযায়ী ঢাকা মহানগরী ও তৎসংলগ্ন পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসনে ও পরিবেশ উন্নয়নে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এর আওতায় ০৬ টি এমআরটি লাইন বা মেট্রোরেল নির্মাণ বিভিন্ন পর্যায়ে বাস্তবায়নাধীন আছে। তন্মধ্যে পূর্ব-পশ্চিম MRT Corridor গুলো হল:

  • MRT Line-1 এর পূর্বাচল রুট। নতুন বাজার থেকে পিতলগঞ্জ ডিপো পর্যন্ত এ রুটের মোট দৈর্ঘ্য ১১.৩৬৯ কিলোমিটার। সম্পূর্ণ অংশ উড়াল এবং মোট স্টেশন সংখ্যা ৯টি। তন্মধ্যে ৭টি স্টেশন হবে উড়াল। নতুন বাজার ও যমুনা ফিউচার পার্ক স্টেশনদ্বয় বিমানবন্দর রুটের অংশ হিসেবে পাতাল নির্মিত হবে।
  • হেমায়েতপুর হতে ভাটারা পর্যন্ত পাতাল ও উড়াল সমন্বয়ে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ (পাতাল ১৩.৫০ কিলোমিটার এবং উড়াল ৬.৫০ কিলোমিটার) ও ১৪টি স্টেশন (পাতাল ৯টি এবং উড়াল ৫টি) বিশিষ্ট MRT Line-5: Northern Route
  • গাবতলী হতে দাশেরকান্দি পর্যন্ত উড়াল ও পাতাল সমন্বয়ে ১৭.৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ (পাতাল ১২.৮০ কিলোমিটার এবং উড়াল ৪.৬০ কিলোমিটার) এবং ১৬ টি স্টেশন (পাতাল ১২ টি এবং উড়াল ৪ টি) বিশিষ্ট MRT Line-5: Southern Route
  • গাবতলী হতে চট্রগ্রাম রোড পর্যন্ত উড়াল ও পাতাল সমন্বয়ে প্রায় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ MRT Line-2

 



Share with :

Facebook Facebook