Text size A A A
Color C C C C
Last updated: 22nd May 2022

Frequently Asked Questions (FAQs) of DMTCL

হালনাগাদের তারিখ: ১৭ এপ্রিল ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

ক্রম

জিজ্ঞাসা

উত্তর

1. 

ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) বা মেট্রোরেল কী?

ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) বা মেট্রোরেল মহানগরী ও তৎসংলগ্ন পার্শ্ববর্তী এলাকার সমন্বয়ে রেলভিত্তিক একত্রে অধিক যাত্রী পরিবহনে সক্ষম একটি অত্যাধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা। এমআরটি বা মেট্রোরেল উড়াল অথবা পাতাল অথবা উড়াল ও পাতাল সমন্বয়ে গঠিত দূরনিয়ন্ত্রিত, দ্রুতগামী, নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, সময়-সাশ্রয়ী, বিদ্যুৎ চালিত ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন। মেট্রোরেল জনবহুল মহানগরীর যানজট নিরসনে ও পরিবেশ উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। মেট্রোরেলের স্টেশনসমূহ কম-বেশি এক কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত হয় বিধায় স্টেশনের ৫০০ (পাঁচশত) – ১০০০ (এক হাজার) মিটার পরিধির মধ্যে অবস্থিত জনসাধারণ হেঁটে মেট্রোরেল স্টেশনে এসে মেট্রোরেলে যাতায়াত করতে পারেন।

2. 

মেট্রোরেল বাস্তবায়নকারী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কোনটি এবং এর কর্মপরিধি কী?

ঢাকা মহানগরী ও তৎসংলগ্ন পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসনে ও পরিবেশ উন্নয়নে অত্যাধুনিক গণপরিবহন হিসেবে Mass Rapid Transit (MRT) বা মেট্রোরেলের পরিকল্পনা, সার্ভে, ডিজাইন, অর্থায়ন, নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের নিমিত্ত গত ০৩ জুন ২০১৩ তারিখ শতভাগ সরকারি মালিকানাধীন Dhaka Mass Transit Company Limited (DMTCL) গঠন করা হয়।

রূপকল্প

বাঁচবে সময়, বাঁচবে পরিবেশ

যানজট কমাবে মেট্রোরেল

অভিলক্ষ্য

দ্রুতগামী, নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, সময় সাশ্রয়ী, বিদ্যুৎচালিত, পরিবেশবান্ধব ও দূরনিয়ন্ত্রিত অত্যাধুনিক গণপরিবহণ ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরী ও তৎসংলগ্ন পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসন

3.

মেট্রোরেল নির্মাণে সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০ কী?

সরকার ৬(ছয়)টি মেট্রোরেল সমন্বয়ে ঢাকা মহানগরী ও তৎসংলগ্ন পার্শ্ববর্তী এলাকায় মোট ১২৯.৯০১ কিলোমিটার (উড়াল ৬৮.৭২৯ কিলোমিটার এবং পাতাল ৬১.১৭২ কিলোমিটার) দীর্ঘ ও ১০৫ স্টেশন (উড়াল ৫২ এবং পাতাল ৫৩) বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার নিমিত্ত নিম্নোক্ত সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০ গ্রহণ করেছে:

সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০

ক্রম

এমআরটি লাইনের নাম

পর্যায়

সম্ভাব্য সমাপ্তির সাল

ধরণ

১.

এমআরটি লাইন-৬

প্রথম

২০২৪

উড়াল

২.

এমআরটি লাইন-১

দ্বিতীয়

২০২৬

উড়াল

পাতাল

৩.

এমআরটি লাইন-৫: নর্দার্ন রুট

২০২৮

৪.

এমআরটি লাইন-৫: সাউদার্ন রুট

তৃতীয়

২০৩০

৫.

এমআরটি লাইন-২

৬.

এমআরটি লাইন-৪

উড়াল

 

 

সুনির্দিষ্ট যাত্রী চাহিদা সার্ভের ভিত্তিতে বাস্তবায়নের পর্যায় ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে।

4.

সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০-এ অন্তর্ভুক্ত ৬টি মেট্রোরেলের রুট এ্যালাইনমেন্ট এবং স্টেশনসমূহের অবস্থান কী?

সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০-এ অন্তর্ভুক্ত ৬টি মেট্রোরেলের রুট এ্যালাইনমেন্ট হল:

MRT Line-6 এর রুট এ্যালাইনমেন্ট

উত্তরা ৩য় পর্ব - পল্লবী - রোকেয়া সরণির পশ্চিম পার্শ্ব দিয়ে খামারবাড়ী হয়ে ফার্মগেট - হোটেল সোনারগাঁও - শাহবাগ - টিএসসি - দোয়েল চত্ত্বর - তোপখানা রোড - বাংলাদেশ ব্যাংক - জসিম উদ্দিন রোডের প্রথম অংশ হয়ে দক্ষিণ দিক দিয়ে সার্কুলার রোড সংলগ্ন কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা।

MRT Line-6 এর স্টেশন

উত্তরা উত্তর - উত্তরা সেন্টার - উত্তরা দক্ষিণ - পল্লবী - মিরপুর ১০ - মিরপুর ১১ - কাজীপাড়া - শেওড়াপাড়া - আগারগাঁও - বিজয় সরণি - ফার্মগেইট - কারওয়ান বাজার - শাহবাগ - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় - বাংলাদেশ সচিবালয় - মতিঝিল - কমলাপুর

MRT Line-1 এর রুট এ্যালাইনমেন্ট ও স্টেশনের অবস্থান

বিমানবন্দর রুট: বিমানবন্দর - বিমানবন্দর টার্মিনাল ৩ - খিলক্ষেত - নদ্দা - নতুন বাজার - উত্তর বাড্ডা - বাড্ডা - আফতাব নগর - রামপুরা - মালিবাগ - রাজারবাগ - কমলাপুর

পূর্বাচল রুট: নতুন বাজার - নদ্দা - জোয়ার সাহারা - বোয়ালিয়া - মস্তুল - শেখ হাসিনা ক্রিকেট স্টেডিয়াম - পূর্বাচল সেন্টার - পূর্বাচল পূর্ব - পূর্বাচল টার্মিনাল

MRT Line-5: Northern Route এর রুট এ্যালাইনমেন্ট ও স্টেশনের অবস্থান

হেমায়েতপুর - বালিয়ারপুর - বিলামালিয়া - আমিনবাজার - গাবতলী - দারুস সালাম - মিরপুর ১ - মিরপুর ১০ - মিরপুর ১৪ - কচুক্ষেত - বনানী - গুলশান ২ - নতুন বাজার - ভাটারা

MRT Line-5: Southern Route এর রুট এ্যালাইনমেন্ট ও স্টেশনের অবস্থান

গাবতলী - টেকনিক্যাল - কল্যাণপুর - শ্যামলী - কলেজ গেইট - আসাদ গেইট - রাসেল স্কয়ার - কারওয়ান বাজার - হাতিরঝিল - তেজগাঁও - নিকেতন - আফতাব নগর - আফতাব নগর সেন্টার -আফতাব নগর পূর্ব - দাশেরকান্দি - বালুরপাড়

MRT Line-2 এর রুট এ্যালাইনমেন্ট

গাবতলী - Embankment Road - বসিলা - মোহাম্মদপুর বিআরটিসি বাস স্ট্যান্ড - সাত মসজিদ রোড - জিকাতলা - ধানমন্ডি ২ নম্বর রোড - সাইন্স ল্যাবরেটরি - নিউ মার্কেট - নীলক্ষেত - আজিমপুর - পলাশী - শহীদ মিনার - ঢাকা মেডিকেল কলেজ - পুলিশ হেডকোয়ার্টার - গোলাপ শাহ মাজার - বঙ্গভবনের উত্তর পার্শ্বস্থ সড়ক - মতিঝিল - আরামবাগ - কমলাপুর - মুগদা - মান্ডা - ডেমড়া - চট্টগ্রাম রোড

MRT Line-4 এর প্রস্তাবিত রুট এ্যালাইনমেন্ট

কমলাপুর - সাইনবোর্ড - চট্টগ্রাম রোড - কাঁচপুর - মদনপুর

 

5.

সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০-এ অন্তর্ভুক্ত ৬টি মেট্রোরেলের দৈর্ঘ্য ও স্টেশন সংখ্যার বিন্যাস কিরূপ?

সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০-এ অন্তর্ভুক্ত ৬টি মেট্রোরেলের দৈর্ঘ্য ও স্টেশনসমূহের বিন্যাস হল:

এমআরটি লাইনসমূহের নাম

দৈর্ঘ্য (কিলোমিটার)

স্টেশন সংখ্যা

মোট

উড়াল

পাতাল

মোট

উড়াল

পাতাল

এমআরটি লাইন-৬

২১.২৬

২১.২৬

-

১৭

১৭

-

এমআরটি লাইন-১

৩১.২৪১*

১১.৩৬৯

১৯.৮৭২

২১

০৭

১৪

এমআরটি লাইন-৫: নর্দার্ন রুট

২০.০০

০৬.৫০

১৩.৫০

১৪

০৫

০৯

এমআরটি লাইন-৫: সাউদার্ন রুট

১৭.৪০

০৪.৬০

১২.৮০

১৬

০৪

১২

এমআরটি লাইন-২

২৪.০০

০৯.০০

১৫.০০

২২

০৪

১৮

এমআরটি লাইন-৪

১৬.০০

১৬.০০

-

১৫

১৫

-

সর্বমোট

১২৯.৯০১

৬৮.৭২৯

৬১.১৭২

১০৫

৫২

৫৩

*বিমানবন্দর রুট (বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর) এর মোট দৈর্ঘ্য ১৯.৮৭২ কিলোমিটার এবং সম্পূর্ণ অংশ পাতাল। স্টেশন সংখ্যা ১২টি। পূর্বাচল রুট (নতুন বাজার থেকে পিতলগঞ্জ ডিপো) এর মোট দৈর্ঘ্য ১১.৩৬৯ কিলোমিটার। সম্পূর্ণ অংশ উড়াল এবং মোট স্টেশন সংখ্যা ৯টি। তন্মধ্যে ৭টি স্টেশন হবে উড়াল।

6.

ডিএমটিসিএল এর আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহের নাম কী?

ডিএমটিসিএল এর আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহের বিবরণ নিম্নরূপ:

কারিগরি প্রকল্প

  • Technical Assistance for Dhaka Mass Rapid Transit Development Project (Line-1) [E/S]
  • Technical Assistance for Dhaka Mass Rapid Transit Development    Project (Line-5): Southern Route [PRF]

স্টাডি প্রকল্প

  • Dhaka Mass Rapid Transit Development Project (Line-2)

নির্মাণাধীন প্রকল্প

  • Dhaka Mass Rapid Transit Development Project (Line-6)
  • Dhaka Mass Rapid Transit Development Project (Line-1)
  • Dhaka Mass Rapid Transit Development Project (Line-5): Northern    Route

আপকামিং প্রকল্প

  • Dhaka Mass Rapid Transit Development Project (Line-4)

7.

সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০ যানজট নিরসনে ও পরিবেশ উন্নয়নে কী ভূমিকা রাখবে?

সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০ অনুযায়ী ০৬টি এমআরটি লাইন বা মেট্রোরেল নির্মাণ সম্পন্ন হলে ২০৩০ সালে দৈনিক 50,40,489 (পঞ্চাশ লক্ষ চল্লিশ হাজার চারশত ঊননব্বই) জন যাত্রী মেট্রোরেল ব্যবহার করে যাতায়াত করতে পারবেন। দৈনিক যাতায়াতকারী যাত্রীগণের লাইনভিত্তিক পরিসংখ্যান নিম্নরূপ:

ক্রম:

লাইনের নাম

দৈনিক যাত্রী সংখ্যা

১.

এমআরটি লাইন-৬

6,77,300

২.

এমআরটি লাইন-১

8,92,400

৩.

এমআরটি লাইন-৫: নর্দার্ন রুট

10,24,803

৪.

এমআরটি লাইন-৫: সাউদার্ন রুট

9,24,409

৫.

এমআরটি লাইন-২

10,84,600

৬.

এমআরটি লাইন-৪

4,36,977

মোট=

50,40,489

 

মেট্রোরেলে অল্প সময়ে অধিক সংখ্যায় যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। ছোট ছোট যানবাহনের ব্যবহার ব্যাপকভাবে কমে যাবে। জীবাশ্ম জ্বালানীর ব্যবহার বহুলাংশে কম হবে। ঢাকা মহানগরীর যাতায়াত ব্যবস্থায় ভিন্ন মাত্রা ও গতি যোগ হবে। যানজট বহুলাংশে হ্রাস পাবে। মহানগরবাসীর কর্মঘন্টা সাশ্রয় হবে। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সাশ্রয়কৃত কর্মঘন্টা ব্যবহার করা যাবে। GDP Growth Rate বৃদ্ধি পাবে।

মেট্রোরেল সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ চালিত বিধায় কোনো ধরণের জীবাশ্ম ও তরল জ্বালানী ব্যবহৃত হবে না। ফলে বায়ু দূষণ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। Railway Track এর নিচে Mass Spring System (MSS) থাকবে। Continuous Welded Rail (CWR) ব্যবহার করা হবে। উড়াল মেট্রোরেলের ভায়াডাক্টের উভয় পার্শ্বে শব্দ প্রতিবন্ধক দেয়াল থাকবে এবং পাতাল মেট্রোরেলের টানেল সংলগ্ন মাটি শব্দ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করবে। ফলশ্রুতিতে মেট্রোরেলে শব্দ ও কম্পন দূষণ মাত্রা মানদন্ড সীমার অনেক নিচে থাকবে। সার্বিকভাবে পরিবেশ দূষণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বরং পরিবেশ উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

8.

মেট্রোরেলের ৬টি রুটের মধ্যে কোন কোন স্টেশনে আন্তঃলাইন সংযোগ স্টেশন থাকবে?

৬টি মেট্রোরেল লাইনের মধ্যে নিম্নলিখিত স্টেশনসমূহে আন্তঃলাইন সংযোগ থাকবে:

আন্তঃলাইন সংযোগ স্টেশনের নাম

এমআরটি লাইন

মিরপুর-১০ স্টেশন

এমআরটি লাইন-৬ এবং এমআরটি লাইন-৫: নর্দার্ন রুট

কারওয়ান বাজার স্টেশন

এমআরটি লাইন-৬ এবং এমআরটি লাইন-৫: সাউদার্ন রুট

নতুন বাজার স্টেশন

এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫: নর্দার্ন রুট

আফতাব নগর স্টেশন

এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫: সাউদার্ন রুট

গাবতলী স্টেশন

এমআরটি লাইন-৫: নর্দার্ন রুট, এমআরটি লাইন-৫: সাউদার্ন রুট ও এমআরটি লাইন-২

কমলাপুর এমআরটি স্টেশন

এমআরটি লাইন-৬, এমআরটি লাইন-১, এমআরটি লাইন-২ ও এমআরটি লাইন-৪

 

 

9.

জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে মেট্রোরেলের অবদান কিরূপ?

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু। দেশের সম্পূর্ণ জিডিপিতে ঢাকার অবদান প্রায় ৩৬ শতাংশ। ঢাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় এই অতিমহানগরীর জনসংখ্যা ২০২২ সালে প্রায় ২ কোটি ২৪ লক্ষ ৭৮ হাজারে উন্নীত হয়েছে। ঢাকার জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ৫০ হাজার। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ২০১০ সালে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ৫,৯৩,০৭৭টি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ফেব্রুয়ারি ২০২২ মাসে ১৮,১০,২৭৫ টিতে উন্নীত হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর সড়ক ঘনত্ব ৬.১২ কিলোমিটার/কিলোমিটার। এতে মহানগরীর যানজট তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং ক্রমাবনতী হচ্ছে। এই যানজট এবং এর ফলশ্রুত প্রভাবে বার্ষিক প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞগণ অভিমত ব্যক্ত করছেন। সর্বশেষ উপাত্ত থেকে দেখা যায় যে, বর্ষা মৌসুমে বায়ুতে গড় Particulate Matter (PM)2.5 এর মাত্রা ২৫ µg/m3 থেকে ১১০ µg/m3 এবং শুষ্ক মৌসুমে বায়ুতে গড় Particulate Matter (PM)2.5 এর মাত্রা ১০০ µg/m3 থেকে ১৫০ µg/m3 যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানমাত্রা (২০ μg/m– ৭০ μg/m3) থেকে অনেক বেশি।  এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে।

সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০ অনুযায়ী ০৬টি এমআরটি লাইন বা মেট্রোরেল নির্মাণ সম্পন্ন হলে ২০৩০ সালে দৈনিক 50,40,489 জন যাত্রী মেট্রোরেল ব্যবহার করে যাতায়াত করতে পারবেন। ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর এমআরটি লাইন-৬ বা বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেল চালু হলে দৈনিক ৫ লক্ষ যাত্রী মেট্রোরেল ব্যবহার করে চলাচল করতে পারবেন। অল্প সময়ে অধিক সংখ্যায় যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। ছোট ছোট যানবাহনের ব্যবহার ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে। জীবাশ্ম ও তরল জ্বালানীর ব্যবহার বহুলাংশে কমে যাবে। ঢাকা মহানগরীর যাতায়াত ব্যবস্থায় ভিন্ন মাত্রা ও গতি যোগ হবে। যানজট বহুলাংশে হ্রাস পাবে। মহানগরবাসীর কর্মঘন্টা সাশ্রয় হবে। যানজট এবং এর ফলশ্রুত প্রভাবে যে ক্ষতি হচ্ছে তা সাশ্রয় হবে। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সাশ্রয়কৃত কর্মঘন্টা ও অর্থ ব্যবহার করা যাবে। GDP Growth Rate বৃদ্ধি পাবে।

10.

সরকারের সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০ পরবর্তী পরিকল্পনা কী?

মেট্রোরেল আইন ২০১৫ এর ধারা-১ এর উপধারা-(২) (ক) অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর এবং নরসিংদী জেলাকে মেট্রোরেলের কার্যক্রমের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০ এর আওতায় নারায়ণগঞ্জ মহানগরীকে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হচ্ছে। প্রণীতব্য দ্বিতীয় কর্মপরিকল্পনায় MRT Line-6-কে গাজীপুর মহানগরী পর্যন্ত, MRT Line-1-কে পূর্ব দিকে বর্ধিত করে নরসিংদী জেলার মাধবদী পর্যন্ত ও দক্ষিণ দিকে বর্ধিত করে মুন্সিগঞ্জ জেলার ঝিলমিল পর্যন্ত, MRT Line-5: Northern Route-কে ঢাকা জেলার নবীনগর পর্যন্ত এবং MRT Line-5: Southern Route-কে নারায়ণগঞ্জ জেলার বরপা পর্যন্ত বর্ধিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় অদূর ভবিষ্যতে মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ এবং নরসিংদী জেলা শহরকে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। Strategic Transport Plan 2015-2035 (Revised and updated up to 2015) এর পরবর্তী সংশোধনের সময় Upcoming Mass Rapid Transit (MRT) বা মেট্রোরেলসমূহ অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। একই আইনের ধারা-১ এর উপধারা-(২) (খ) অনুযায়ী চট্টগ্রাম মহানগরীতে সরকারের মেট্রোরেল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

11.

ঢাকা মহানগরী ও সংলগ্ন পার্শ্ববর্তী এলাকার বাহিরে বিভাগীয় মহানগরীতে মেট্রোরেল নির্মাণের কোন পরিকল্পনা আছে কী?

চট্টগ্রাম বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী। চট্টগ্রাম মহানগরীর যানজট পরিস্থিতি ধারাবাহিকভাবে অবনতি হচ্ছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর যানজট নিরসনে ও পরিবেশ উন্নয়নের নিমিত্ত চট্টগ্রাম মহানগরীতে Mass Rapid Transit (MRT) বা মেট্রোরেল প্রবর্তন করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম মহানগরীর জন্য একটি সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নিমিত্ত সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

12.

ডিএমটিসিএল এবং এর আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহে সরসরি জনবল নিয়োগের পদ্ধতি কী?

ডিএমটিসিএল এবং এর আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সরাসরি জনবল নিয়োগ করা হয়ে থাকে। এই জন্য ন্যূনতম একটি বাংলা জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় এবং একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রদান করা হয়। এছাড়াও ডিএমটিসিএল এর ওয়েবসাইট www.dmtcl.gov.bd এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ওয়েবসাইট www.rthd.gov.bd -তে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আপলোড করা হয়। প্রাপ্ত আবেদন ও সংযুক্তিসমূহ যাচাই বাছাই করে লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। চূড়ান্ত তালিকার ভিত্তিতে প্রার্থীগণকে প্রথমে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। লিখিত অথবা লিখিত ও ব্যবহারিক উভয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। মৌখিক পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রার্থীকে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোম্পানির নির্ধারিত মনোবিজ্ঞানী/প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গৃহিত মনস্তাত্বিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। লিখিত, ব্যবহারিক (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), মৌখিক ও মনস্তাত্বিক পরীক্ষায় (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) উত্তীর্ণ প্রার্থীদের যৌথ মেধাক্রম প্রস্তুত করা হয়। শুন্য পদের বিপরীতে মেধাক্রম অনুযায়ী নিয়োগ প্রদান করা হয়। নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীকে কোম্পানির নির্ধারিত চিকিৎসক/চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ডোপ টেস্ট এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। ডোপ টেস্ট এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নির্ধারিত ফরমে সন্তোষজনক পুলিশ প্রতিবেদন প্রাপ্তিসাপেক্ষে নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়। অন্যান্য বিষয়াদি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং নিয়োগ পত্র অনুযায়ী নির্ধারিত হয়ে থাকে। ব্যক্তিগত যোগাযোগ বা সুপারিশের ভিত্তিতে জনস্বার্থে কোনো নিয়োগ প্রদান করা হয় না।  

13.

ঢাকা মহানগরীর পূর্ব-পশ্চিম MRT Corridor-গুলো কী কী?

সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০ অনুযায়ী ঢাকা মহানগরী ও তৎসংলগ্ন পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসনে ও পরিবেশ উন্নয়নে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এর আওতায় ০৬টি এমআরটি লাইন বা মেট্রোরেল নির্মাণ বিভিন্ন পর্যায়ে বাস্তবায়নাধীন আছে। তন্মধ্যে পূর্ব-পশ্চিম MRT Corridor গুলো হল:

  • MRT Line-1 এর পূর্বাচল রুট (নতুন বাজার থেকে পিতলগঞ্জ ডিপো): এই রুটের মোট দৈর্ঘ্য ১১.৩৬৯ কিলোমিটার। সম্পূর্ণ অংশ উড়াল এবং মোট স্টেশন সংখ্যা ৯টি। তন্মধ্যে ৭টি স্টেশন হবে উড়াল। নতুন বাজার ও নদ্দা স্টেশনদ্বয় বিমানবন্দর রুটের অংশ হিসেবে পাতালে নির্মিত হবে;
  • MRT Line-5: Northern Route: হেমায়েতপুর হতে ভাটারা পর্যন্ত পাতাল ও উড়াল সমন্বয়ে এই রুটের দৈর্ঘ ২০ কিলোমিটার। তন্মধ্যে পাতাল ১৩.৫০ কিলোমিটার এবং উড়াল ৬.৫০ কিলোমিটার। স্টেশন সংখ্যা ১৪টি। তন্মধ্যে পাতাল ৯টি এবং উড়াল ৫টি;
  • MRT Line-5: Southern Route: এই রুটের দৈর্ঘ মোট ১৭.৪০ কিলোমিটার। তন্মধ্যে গাবতলী থেকে আফতাব নগর পশ্চিম পর্যন্ত ১২.৮০ কিলোমিটার পাতাল এবং আফতাব নগর সেন্টার থেকে বালুরপাড় পর্যন্ত ৪.৬০ কিলোমিটার উড়াল। মোট স্টেশন সংখ্যা ১৬টি। তন্মধ্যে পাতাল ১২টি এবং উড়াল ৪টি;
  • MRT Line-2: গাবতলী হতে চট্রগ্রাম রোড পর্যন্ত উড়াল ও পাতাল সমন্বয়ে এই রুটের দৈর্ঘ প্রায় ২৪ কিলোমিটার; এবং
  • MRT Line-4: কমলাপুর থেকে মদনপুর পর্যন্ত উড়াল ও পাতাল সমন্বয়ে এই রুটের দৈর্ঘ প্রায় ১৬ কিলোমিটার

14.

ডিএমটিসিএল এর আওতায় Transit Oriented Development (TOD) Hub নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা আছে কী?

শুধু ভাড়া আদায়ের আয় থেকে লাভজনকভাবে মেট্রোরেল পরিচালনা করা যায় না। এই প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০-এর MRT Network-এ অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি লাইনের রুট এ্যালাইনমেন্টের পার্শ্ববর্তী এলাকায় অথবা ডিপোতে একটি করে  Transit Oriented Development (TOD) Hub গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করছে। 

উত্তরা সেন্টার মেট্রোরেল স্টেশন সংলগ্ন ভূমিতে TOD Hub নির্মাণের জন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) উত্তরা ৩য় পর্ব প্রকল্প এলাকায় ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)-এর অনুকূলে ৩২.২৭৭ একর ভূমি বরাদ্দ প্রদান করেছে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন Project for Development of Policy and Guidelines for Transit Oriented Development along Mass Transit Corridors প্রকল্পের পরামর্শক, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং টিম ডিএমটিসিএল এর সমন্বয়ে গত ০১ মার্চ ২০২২ তারিখ একটি আন্ত:সংস্থা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এমআরটি লাইন-৬ এর উত্তরা সেন্টার মেট্রোরেল স্টেশন সংলগ্ন TOD নির্মাণের জন্য নির্ধারিত ভূমিকে Green Field হিসেবে চিহ্নিত করে উক্ত প্রকল্পের আওতায় TOD নির্মাণের জন্য পাইলট প্রকল্প হিসেবে স্থান চূড়ান্ত করা হয়েছে। উত্তরা সেন্টার মেট্রোরেল স্টেশন সংলগ্ন নির্ধারিত ভূমিতে TOD নির্মাণের জন্য এই প্রকল্পের আওতায় Concept Plan/Master Plan, Real Estate Development/ Management Plan, Basic infrastructure Plan, Parking Policy in TOD Area, Guidelines for Urban design with community facilities, Preliminary Financial Assessment, Strategic Environmental Assessment (SEA) ইত্যাদি করা হবে। MRT Line-1, MRT Line-5: Northern Route এবং MRT Line-5: Southern Route এর আওতায় TOD নির্মাণের নিমিত্ত ভূমির অনুসন্ধান চলছে।

15.

ডিএমটিসিএল এর আওতায় Station Plaza নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা আছে কী?

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) লাভজনকভাবে পরিচালনার নিমিত্ত সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০-এ অন্তর্ভুক্ত MRT Network-এর আন্তঃলাইন সংযোগ স্টেশন ও প্রধান প্রধান স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ক্রমান্বয়ে Station Plaza গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় MRT Line-6 এর উত্তরা উত্তর, আগারগাঁও, ফার্মগেইট ও কমলাপুর মেট্রোরেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ০৪(চার)টি Station Plaza নির্মাণের জন্য প্রাথমিকভাবে ভূমি চিহ্নিত করা হয়েছে। চিহ্নিত ভূমি অধিগ্রহণ/রাষ্ট্রীয় সংস্থার ভূমি ব্যবহারের মাধ্যমে  Station Plaza গুলো নির্মাণের উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন আছে। MRT Line-1, MRT Line-5: Northern Route এবং MRT Line-5: Southern Route এর আওতায় Station Plaza নির্মাণের নিমিত্ত ভূমির অনুসন্ধান চলছে।

16.

মেট্রোরেল ব্যবহার সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করতে কি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে?

অত্যাধুনিক গণপরিবহন হিসেবে বাংলাদেশে প্রথম বারের মত MRT বা মেট্রোরেল নির্মিত হতে যাচ্ছে। মেট্রোরেল সম্পর্কে জনসাধারণকে সম্যক ধারণা প্রদানের লক্ষ্যে MRT Line-6 এর উত্তরা ডিপো এলাকায় Metro Rail Exhibition & Information Center (MREIC) নির্মাণ করা হয়েছে। মেট্রো ট্রেনের Mock Up উত্তরা ডিপোস্থ MREIC-তে স্থাপন করা হয়েছে। মূল মেট্রো ট্রেন সেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জনসাধারণকে মেট্রো ট্রেনের যাতায়াত সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা প্রদানের নিমিত্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলাচলে সক্ষম ০২ সেট Mini মেট্রো ট্রেন সংগ্রহ করে স্থাপন করা হয়েছে। মেট্রো স্টেশনের সঙ্গে মিল রেখে Ticket Office Machine (TOM) এবং Ticket Vending Machine (TVM) উত্তরাস্থ MREIC-তে স্থাপন করা হয়েছে। মেট্রো স্টেশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে Smart Card Based স্বয়ংক্রিয় প্রবেশ এবং বহিরগমন গেইটও স্থাপন করা হয়েছে। MREIC-এর প্রদর্শনী হলে প্রদর্শনের জন্য মেট্রোরেলের অভ্যন্তরে ও মেট্রোরেল স্টেশনে যাত্রীগণের করণীয় এবং বর্জনীয় বিষয়সমূহের সচিত্র উপস্থাপনা সম্বলিত ডিসপ্লে বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। MREIC-এর ভিডিও প্রদর্শনী হলে প্রদর্শনের জন্য ভিডিও এবং এ্যানিমেটেড কার্টুন নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

17.

 

স্বতন্ত্র বিশেষায়িত MRT Police Force গঠনের উদ্যোগের সর্বশেষ অবস্থা কী?

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখ গণভবনে অনুষ্ঠিত সভায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৬টি MRT Line সমন্বয়ে গঠিত MRT Network-এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নিমিত্ত স্বতন্ত্র বিশেষায়িত MRT Police Force দ্রুত গঠন করতে অনুশাসন প্রদান করেন। এরই ধারাবাহিকতায় যথাযথ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে জননিরাপত্তা বিভাগ হতে গত ০২ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখ ৩৫৭টি পদ সৃজন এবং ২১টি যানবাহন টিওএন্ডই-তে অন্তর্ভূক্তকরণের প্রস্তাব প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় উত্থাপনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রেরণ করা হয়। পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য বিষয়টি বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রক্রিয়াধীন আছে। MRT Line-1 এর পিতলগঞ্জ ডিপো এলাকায় স্বতন্ত্র বিশেষায়িত MRT Police Force এর প্রধান কার্যালয় নির্মাণের জন্য ভূমি চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে।

18.

বিশেষ শারীরিক চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য মেট্রোরেলে কি ধরণের সুবিধাদি সংযোজিত আছে?

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এর আওতায় বাস্তবায়নাধীন বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেলের স্টেশন ও ট্রেনের অভ্যন্তরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের (Physically Challenged Persons) জন্য উন্নত বিশ্বের ন্যায় প্রয়োজনীয় সুবিধাদি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যে সকল ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সুবিধাদি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তন্মধ্যে অন্যতম হল: হুইল চেয়ার ব্যবহারকারী, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী ইত্যাদি।

19.

মহিলা, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য মেট্রোরেলে কি ধরণের সুবিধাদি সংযোজিত আছে?

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এর আওতায় বাস্তবায়নাধীন বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেলে মহিলা যাত্রীগণের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্য যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্য প্রতি মেট্রো ট্রেনে একটি স্বতন্ত্র মহিলা কোচ থাকবে। মেট্রো স্টেশনগুলোতে মহিলা যাত্রীদের জন্য পৃথক বাথরুমের সংস্থান আছে এবং তাতে শিশুদের ডায়াপার পরিবর্তনের সুবিধার্থে বিশেষ ব্যবস্থা সংযোজিত আছে। গর্ভবতী মহিলা ও বয়স্ক যাত্রীগণের জন্য মেট্রো ট্রেনের কোচের অভ্যন্তরে আসন সংরক্ষিত থাকবে।

20.

 

গুলশান হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে অনাকাঙ্খিত ঘটনায় নিহত জাপানী নাগরিকদের স্মরণে কোনো স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে কী?

 

গত ০১ জুলাই ২০১৬ তারিখে ঢাকার গুলশান হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ০৭(সাত) জন জাপানী নাগরিক নিহত হন। নিহত জাপানী নাগরিকগণ এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫: নর্দার্ন রুট এর পরামর্শক হিসেবে বাংলাদেশে কর্মরত ছিলেন। নিহত জাপানী নাগরিকগণ হলেন: Koyo Ogasawara, Makoto Okamura, Yuko Sakai, Rui Shimodaira, Hiroshi Tanaka, Nobuhiro Kurosaki এবং Hideki Hashimoto. সরকার নিহত এই ০৭(সাত) জন জাপানী নাগরিকের স্মরণে Memorial Monument নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত 24 নভেম্বর ২০২১ তারিখ বাংলাদেশ সরকার ও জাইকা’র মধ্যে স্বাক্ষরিত Minutes of Discussion (MoD) অনুযায়ী নিহতদের স্মরণে নির্মিতব্য এই Memorial Monument-টি MRT Line-6 এর উত্তরা ডিপোস্থ এলাকায় Metro Rail Exhibition and Information Centre (MREIC)-এ স্থাপন করা হবে। পরবর্তিতে MRT Line-1 ও MRT Line-5: Northern Route এর আন্তঃসংযোগ মেট্রোরেল স্টেশন নতুন বাজারে Memorial Monument টি স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

21.

 

ঢাকা মেট্রোরেল নির্মাণের ফলে কি ধরণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে?

 

অত্যাধুনিক নগর পরিবহন হিসেবে মেট্রোরেল বিভিন্ন প্রকৌশল বিভাগের একটি সমন্বিত কার্যক্রম। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এর আওতায় ঢাকা মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক নির্মাণের নিমিত্ত সরকারের সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০ বাস্তবায়িত হওয়ার পর শুধু ডিএমটিসিএল এর অধীনে নতুন ১২ হাজার গ্র্যাজুয়েট প্রকৌশলী ও মাঠ প্রকৌশলীদের চাকরির সংস্থান হবে। এরই ধারাবাহিকতায় Forward ও Backward Linkage শিল্প স্থাপন ও সেবা কার্যক্রমের মাধ্যমে আরও তিনগুণ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলশ্রুতিতে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য দেশের অভ্যন্তরে দক্ষ জনশক্তি তৈরী হবে। এই দক্ষ জনশক্তি দেশের চাহিদা পূরণ করেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সম্প্রসারমান মেট্রোরেলে কাজ করতে পারবেন। এতে বাংলাদেশের Remittance প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 



Share with :

Facebook Facebook