Wellcome to National Portal
Text size A A A
Color C C C C
Last updated: 17th August 2022

Frequently Asked Questions (FAQs) of DMTCL

হালনাগাদের তারিখ: ৩১ জুলাই ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

 

ক্রম

জিজ্ঞাসা

উত্তর

১। 

ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) বা মেট্রোরেল কী?

ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) বা মেট্রোরেল মহানগরী ও তৎসংলগ্ন পার্শ্ববর্তী এলাকার সমন্বয়ে রেলভিত্তিক একত্রে অধিক যাত্রী দ্রুত পরিবহনে সক্ষম একটি অত্যাধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা। এমআরটি বা মেট্রোরেল উড়াল অথবা পাতাল অথবা উড়াল ও পাতাল সমন্বয়ে গঠিত দূরনিয়ন্ত্রিত, দ্রুতগামী, নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, সময়-সাশ্রয়ী, বিদ্যুৎ চালিত ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন। মেট্রোরেল জনবহুল মহানগরীর যানজট নিরসনে ও পরিবেশ উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। মেট্রোরেলের স্টেশনসমূহ কম-বেশি এক কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত হয় বিধায় স্টেশনের ৫০০ (পাঁচশত) - ১০০০ (এক হাজার) মিটার পরিধির মধ্যে অবস্থিত জনসাধারণ হেঁটে বা সাইকেলে মেট্রোরেল স্টেশনে এসে মেট্রোরেলে যাতায়াত করতে পারেন।

২।

মেট্রোরেল বাস্তবায়নকারী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কোনটি এবং এর রূপকল্প ও অভিলক্ষ্য কী?

ঢাকা মহানগরী ও তৎসংলগ্ন পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসনে ও পরিবেশ উন্নয়নে অত্যাধুনিক গণপরিবহন হিসেবে Mass Rapid Transit (MRT) বা মেট্রোরেলের পরিকল্পনা, সার্ভে, ডিজাইন, অর্থায়ন, নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের নিমিত্ত গত ০৩ জুন ২০১৩ তারিখ শতভাগ সরকারি মালিকানাধীন Dhaka Mass Transit Company Limited (DMTCL) গঠন করা হয়।

রূপকল্প

বাঁচবে সময়, বাঁচবে পরিবেশ

যানজট কমাবে মেট্রোরেল

অভিলক্ষ্য

দ্রুতগামী, নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, সময় সাশ্রয়ী, বিদ্যুৎচালিত, পরিবেশবান্ধব ও দূরনিয়ন্ত্রিত অত্যাধুনিক গণপরিবহণ ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরী ও তৎসংলগ্ন পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসন

৩। 

মেট্রোরেল নির্মাণে সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০ কী?

ঢাকা মহানগরী ও তৎসংলগ্ন পার্শ্ববর্তী এলাকায় ৬(ছয়)টি মেট্রোরেল সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার নিমিত্ত সরকার নিম্নোক্ত সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০ গ্রহণ করেছে:

সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০

ক্রম

এমআরটি লাইনের নাম

পর্যায়

সম্ভাব্য সমাপ্তির সাল

ধরণ

১.

এমআরটি লাইন-৬*

প্রথম

২০২৫

উড়াল

২.

এমআরটি লাইন-১

দ্বিতীয়

২০২৬

উড়াল

পাতাল

৩.

এমআরটি লাইন-৫: নর্দার্ন রুট

২০২৮

৪.

এমআরটি লাইন-৫: সাউদার্ন রুট

তৃতীয়

২০৩০

৫.

এমআরটি লাইন-২

৬.

এমআরটি লাইন-৪

 

* এমআরটি লাইন-৬ উত্তরা উত্তর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত নির্মাণ

 

৪।

সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০-এ অন্তর্ভুক্ত ৬টি মেট্রোরেলের রুট এ্যালাইনমেন্ট এবং স্টেশনসমূহের অবস্থান কী?

সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০-এ অন্তর্ভুক্ত ৬টি মেট্রোরেলের রুট এ্যালাইনমেন্ট হল:

MRT Line-6 এর রুট এ্যালাইনমেন্ট

উত্তরা ৩য় পর্ব - পল্লবী - রোকেয়া সরণির পশ্চিম পার্শ্ব দিয়ে খামারবাড়ী হয়ে ফার্মগেট - হোটেল সোনারগাঁও - শাহবাগ - টিএসসি - দোয়েল চত্ত্বর - তোপখানা রোড - বাংলাদেশ ব্যাংক - জসিম উদ্দিন রোডের প্রথম অংশ হয়ে দক্ষিণ দিক দিয়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের সম্মুখস্থ সার্কুলার রোড।

MRT Line-6 এর স্টেশন

উত্তরা উত্তর - উত্তরা সেন্টার - উত্তরা দক্ষিণ - পল্লবী - মিরপুর ১০ - মিরপুর ১১ - কাজীপাড়া - শেওড়াপাড়া - আগারগাঁও - বিজয় সরণি - ফার্মগেইট - কারওয়ান বাজার - শাহবাগ - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় - বাংলাদেশ সচিবালয় - মতিঝিল - কমলাপুর

MRT Line-1 এর রুট এ্যালাইনমেন্ট ও স্টেশনের অবস্থান

বিমানবন্দর রুট: বিমানবন্দর - বিমানবন্দর টার্মিনাল ৩ - খিলক্ষেত - নদ্দা - নতুন বাজার - উত্তর বাড্ডা - বাড্ডা - আফতাব নগর - রামপুরা - মালিবাগ - রাজারবাগ - কমলাপুর

পূর্বাচল রুট: নতুন বাজার - নদ্দা - জোয়ার সাহারা - বোয়ালিয়া - মস্তুল - শেখ হাসিনা ক্রিকেট স্টেডিয়াম - পূর্বাচল সেন্ট্রাল - পূর্বাচল পূর্ব - পূর্বাচল টার্মিনাল

MRT Line-5: Northern Route এর রুট এ্যালাইনমেন্ট ও স্টেশনের অবস্থান

হেমায়েতপুর - বলিয়ারপুর - বিলামালিয়া - আমিনবাজার - গাবতলী - দারুস সালাম - মিরপুর ১ - মিরপুর ১০ - মিরপুর ১৪ - কচুক্ষেত - বনানী - গুলশান ২ - নতুন বাজার - ভাটারা

MRT Line-5: Southern Route এর রুট এ্যালাইনমেন্ট ও স্টেশনের অবস্থান

গাবতলী - টেকনিক্যাল - কল্যাণপুর - শ্যামলী - কলেজ গেইট - আসাদ গেইট - রাসেল স্কয়ার - কারওয়ান বাজার - হাতিরঝিল - তেজগাঁও - আফতাব নগর - আফতাব নগর সেন্ট্রাল - আফতাব নগর পূর্ব - নাছিরাবাদ - দাশেরকান্দি

MRT Line-2 এর প্রস্তাবিত রুট এ্যালাইনমেন্ট

মেইন লাইন

গাবতলী - ঢাকা উদ্যান - মোহাম্মদপুর বাস স্ট্যান্ড - ঝিগাতলা - সাইন্স ল্যাবরেটরি - নিউমার্কেট - আজিমপুর -পলাশী - ঢাকা মেডিকেল কলেজ - গুলিস্তান - মতিঝিল - ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন - মান্ডা - দক্ষিণগাঁও - দামড়িপাড়া - সাইনবোর্ড - ভূইঘর - জালকুড়ি - নারায়ণগঞ্জ

ব্রাঞ্চ লাইন

গোলাপ শাহ মাজার - নয়া বাজার - সদরঘাট

MRT Line-4 এর প্রস্তাবিত রুট এ্যালাইনমেন্ট

কমলাপুর - সায়েদাবাদ - যাত্রাবাড়ী - শনির আখড়া - সাইনবোর্ড - চট্টগ্রাম রোড - কাঁচপুর - মদনপুর

 

৫। 

সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০ অনুযায়ী ঢাকা মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক ম্যাপ কিরূপ?

৬। 

ঢাকা মহানগরীর পূর্ব-পশ্চিম MRT Corridor-গুলো কী কী?

সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০ অনুযায়ী ঢাকা মহানগরী ও তৎসংলগ্ন পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসনে ও পরিবেশ উন্নয়নে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এর আওতায় ০৬টি এমআরটি লাইন বা মেট্রোরেল নির্মাণ বিভিন্ন পর্যায়ে বাস্তবায়নাধীন আছে। তন্মধ্যে পূর্ব-পশ্চিম MRT Corridor গুলো হল:

  • MRT Line-1 এর পূর্বাচল রুট (নতুন বাজার থেকে পিতলগঞ্জ ডিপো): এই রুটের মোট দৈর্ঘ্য ১১.৩৬৯ কিলোমিটার। সম্পূর্ণ অংশ উড়াল এবং মোট স্টেশন সংখ্যা ৯টি। তন্মধ্যে ৭টি স্টেশন হবে উড়াল। নতুন বাজার ও নদ্দা স্টেশনদ্বয় বিমানবন্দর রুটের অংশ হিসেবে পাতালে নির্মিত হবে;
  • MRT Line-5: Northern Route: হেমায়েতপুর হতে ভাটারা পর্যন্ত পাতাল ও উড়াল সমন্বয়ে এই রুটের দৈর্ঘ ২০ কিলোমিটার। তন্মধ্যে পাতাল ১৩.৫০ কিলোমিটার এবং উড়াল ৬.৫০ কিলোমিটার। স্টেশন সংখ্যা ১৪টি। তন্মধ্যে পাতাল ৯টি এবং উড়াল ৫টি;
  • MRT Line-5: Southern Route: এই রুটের দৈর্ঘ্য মোট ১৭.৪০ কিলোমিটার। তন্মধ্যে গাবতলী থেকে আফতাব নগর পশ্চিম পর্যন্ত ১২.৮০ কিলোমিটার পাতাল এবং আফতাব নগর সেন্ট্রাল থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ৪.৬০ কিলোমিটার উড়াল। মোট স্টেশন সংখ্যা ১৫টি। তন্মধ্যে পাতাল ১১টি এবং উড়াল ৪টি;

৭। 

মেট্রোরেলের ৬টি রুটের মধ্যে কোন কোন স্টেশনে আন্তঃলাইন সংযোগ থাকবে?

৬টি মেট্রোরেল লাইনের মধ্যে নিম্নলিখিত স্টেশনসমূহে আন্তঃলাইন সংযোগ থাকবে:

Interchange স্টেশনের নাম

Interchange লাইন

মিরপুর-১০ স্টেশন

এমআরটি লাইন-৬ এবং এমআরটি লাইন-৫: নর্দার্ন রুট

কারওয়ান বাজার স্টেশন

এমআরটি লাইন-৬ এবং এমআরটি লাইন-৫: সাউদার্ন রুট

নতুন বাজার স্টেশন

এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫: নর্দার্ন রুট

আফতাব নগর

এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫: সাউদার্ন রুট

গাবতলী

এমআরটি লাইন-৫: নর্দার্ন রুট, এমআরটি লাইন-৫: সাউদার্ন রুট ও এমআরটি লাইন-২

কমলাপুর এমআরটি স্টেশন

 এমআরটি লাইন-৬, এমআরটি লাইন-১, এমআরটি লাইন-২ ও এমআরটি লাইন-৪

সাইনবোর্ড

এমআরটি লাইন-২ ও এমআরটি লাইন-৪

 

 

৮।

ডিএমটিসিএল এর আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহের নাম কী?

ডিএমটিসিএল এর আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহের বিবরণ নিম্নরূপ:

নির্মাণাধীন প্রকল্প

  • Dhaka Mass Rapid Transit Development Project (Line-6)
  • Dhaka Mass Rapid Transit Development Project (Line-1)
  • Dhaka Mass Rapid Transit Development Project (Line-5): Northern    Route

কারিগরি প্রকল্প

  • Technical Assistance for Dhaka Mass Rapid Transit Development Project (Line-1) [E/S]
  • Technical Assistance for Dhaka Mass Rapid Transit Development Project (Line-5): Southern Route [PRF]

 

৯। 

সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০ যানজট নিরসনে কী ভূমিকা রাখবে?

সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০ অনুযায়ী ৬টি এমআরটি বা মেট্রোরেল লাইন নির্মাণ সম্পন্ন হলে ২০৩০ সালে দৈনিক 50,40,489 (পঞ্চাশ লক্ষ চল্লিশ হাজার চারশত ঊননব্বই) জন যাত্রী মেট্রোরেল ব্যবহার করে যাতায়াত করতে পারবেন। দৈনিক যাতায়াতকারী যাত্রীগণের লাইনভিত্তিক পরিসংখ্যান নিম্নরূপ:

ক্রম:

লাইনের নাম

দৈনিক যাত্রী সংখ্যা

১.

এমআরটি লাইন-৬

6,77,300

২.

এমআরটি লাইন-১

8,92,400

৩.

এমআরটি লাইন-৫: নর্দার্ন রুট

10,24,803

৪.

এমআরটি লাইন-৫: সাউদার্ন রুট

9,24,409

৫.

এমআরটি লাইন-২

10,84,600

৬.

এমআরটি লাইন-৪

4,36,977

মোট=

50,40,489

 

মেট্রোরেলে অল্প সময়ে অধিক সংখ্যায় যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হয়। এতে ছোট ছোট যানবাহনের ব্যবহার ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে। জীবাশ্ম ও তরল জ্বালানীর ব্যবহার বহুলাংশে কমে যাবে। ঢাকা মহানগরীর যাতায়াত ব্যবস্থায় ভিন্ন মাত্রা ও গতি যোগ হবে। মহানগরবাসীর কর্মঘন্টা সাশ্রয় হবে। যানজট বহুলাংশে হ্রাস পাবে। যানজট এবং এর ফলশ্রুত প্রভাবে যে ক্ষতি হচ্ছে তা সাশ্রয় হবে।

 

১০। 

সরকারের সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০ পরবর্তী পরিকল্পনা কী?

মেট্রোরেল আইন ২০১৫ এর ধারা-১ এর উপধারা-(২) (ক) অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর এবং নরসিংদী জেলাকে মেট্রোরেলের কার্যক্রমের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০ এর আওতায় নারায়ণগঞ্জ মহানগরীকে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হচ্ছে। প্রণীতব্য দ্বিতীয় কর্মপরিকল্পনায় MRT Line-6-কে গাজীপুর মহানগরী পর্যন্ত, MRT Line-1-কে পূর্ব দিকে বর্ধিত করে নরসিংদী জেলার মাধবদী পর্যন্ত ও দক্ষিণ দিকে বর্ধিত করে মুন্সিগঞ্জ জেলার ঝিলমিল পর্যন্ত, MRT Line-5: Northern Route-কে ঢাকা জেলার নবীনগর পর্যন্ত এবং MRT Line-5: Southern Route-কে নারায়ণগঞ্জ জেলার বরপা পর্যন্ত বর্ধিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় অদূর ভবিষ্যতে মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ এবং নরসিংদী জেলা শহরকে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। এই প্রেক্ষাপটে Updating of Revised Strategic Transport Plan-এ MRT Line সমূহের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই আইনের ধারা-১ এর উপধারা-(২) (খ) অনুযায়ী চট্টগ্রাম মহানগরীতে সরকারের মেট্রোরেল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

১১। 

ঢাকা মহানগরী ও সংলগ্ন পার্শ্ববর্তী এলাকার বাহিরে বিভাগীয় মহানগরীতে মেট্রোরেল নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা আছে কী?

 

চট্টগ্রাম বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী। চট্টগ্রাম মহানগরীর যানজট পরিস্থিতি ধারাবাহিকভাবে অবনতি হচ্ছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর যানজট নিরসনে ও পরিবেশ উন্নয়নের নিমিত্ত চট্টগ্রাম মহানগরীতে Mass Rapid Transit (MRT) বা মেট্রোরেল প্রবর্তন করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম মহানগরীর জন্য একটি সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নিমিত্ত সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

১২। 

ডিএমটিসিএল এবং এর আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহে সরসরি জনবল নিয়োগের পদ্ধতি কী?

ডিএমটিসিএল এবং এর আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সরাসরি জনবল নিয়োগ করা হয়ে থাকে। এই জন্য ন্যূনতম একটি বাংলা জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় এবং একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রদান করা হয়। এছাড়াও ডিএমটিসিএল এর ওয়েবসাইট www.dmtcl.gov.bd; সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ওয়েবসাইট www.rthd.gov.bd এবং বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়নের ওয়েবসাইট www.bangladesh.gov.bd-তে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আপলোড করা হয়। প্রাপ্ত আবেদন ও সংযুক্তিসমূহ যাচাই বাছাই করে লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। চূড়ান্ত তালিকার ভিত্তিতে প্রার্থীগণকে প্রথমে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। লিখিত অথবা লিখিত ও ব্যবহারিক উভয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। মৌখিক পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রার্থীকে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোম্পানির নির্ধারিত মনোবিজ্ঞানী/প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গৃহিত মনস্তাত্বিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। লিখিত, ব্যবহারিক (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), মৌখিক ও মনস্তাত্বিক পরীক্ষায় (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) উত্তীর্ণ প্রার্থীদের যৌথ মেধাক্রম প্রস্তুত করা হয়। শূন্য পদের বিপরীতে মেধাক্রম অনুযায়ী নিয়োগ প্রদান করা হয়। নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীকে কোম্পানির নির্ধারিত চিকিৎসক/চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ডোপ টেস্ট এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। ডোপ টেস্ট এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নির্ধারিত ফরমে সন্তোষজনক পুলিশ প্রতিবেদন প্রাপ্তিসাপেক্ষে নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়। অন্যান্য বিষয়াদি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং নিয়োগ পত্র অনুযায়ী নির্ধারিত হয়ে থাকে। ব্যক্তিগত যোগাযোগ বা সুপারিশের ভিত্তিতে জনস্বার্থে কোনো নিয়োগ প্রদান করা হয় না।  

১৩। 

ডিএমটিসিএল এর আওতায় Transit Oriented Development (TOD) Hub নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা আছে কী?

Dhaka Mass Transit Company Limited (DMTCL) প্রতিটি এমআরটি লাইনের রুট এ্যালাইনমেন্টে ন্যূনতম একটি করে TOD Hub নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় MRT Line-6 এর উত্তরা সেন্টার মেট্রোরেল স্টেশন সংলগ্ন ভূমিতে TOD Hub নির্মাণের নিমিত্ত রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর নিকট থেকে ২৮.৬১৭ একর ভূমি বরাদ্দ গ্রহণ করা হয়েছে। বরাদ্দ প্রাপ্ত ভূমির মূল্য বাবদ প্রায় ৮৬৫ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা রাজউক-কে পরিশোধ করা হয়েছে। বরাদ্দ প্রাপ্ত ভূমির রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন Project for Development of Policy and Guidelines for Transit Oriented Development along Mass Transit Corridors প্রকল্পের পরামর্শক, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং টিম ডিএমটিসিএল এর সমন্বয়ে গত ০১ মার্চ ২০২২ তারিখ একটি আন্তঃসংস্থা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এমআরটি লাইন-৬ এর উত্তরা সেন্টার মেট্রোরেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় TOD নির্মাণের জন্য নির্ধারিত ভূমিকে Green Field এবং এমআরটি লাইন-৫: নর্দার্ন রুট এর গাবতলী মেট্রোরেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় TOD নির্মাণের জন্য নির্ধারিত ভূমিকে Brown Field হিসেবে চিহ্নিত করে TOD নির্মাণের জন্য স্থান চূড়ান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে এই প্রকল্পের আওতায় MRT Line-6 এর উত্তরা সেন্টার মেট্রোরেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় TOD নির্মাণের জন্য Master Plan প্রস্তুতের কার্যক্রম চলছে। এই Master Plan-এ ৪(চার)টি major development parcels রয়েছে। এইগুলো হল: North, Centre, South ও DMTCL parcels. রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ North, Centre ও South parcels-এর উন্নয়ন করবে এবং DMTCL parcel এর উন্নয়ন করবে DMTCL. এটিই হবে বাংলাদেশের প্রথম TOD Hub.

১৪। 

ডিএমটিসিএল এর আওতায় Station Plaza নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা আছে কী?

Dhaka MRT Network-এর প্রতিটি লাইনের প্রধান প্রধান মেট্রোরেল স্টেশন এলাকায় সুবিধাজনক স্থানে ন্যূনতম ৪টি করে Station Plaza গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় MRT Line-6 এর উত্তরা উত্তর, আগারগাঁও, ফার্মগেট ও কমলাপুর মেট্রোরেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় Station Plaza নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সংস্থার ভূমি হস্তান্তরের মাধ্যমে প্রাপ্তির কার্যক্রম চলমান আছে। ইতোমধ্যে Station Plaza সমূহের Layout Plan প্রস্তুত করা হয়েছে। MRT Line-6 এর উত্তরা উত্তর ও কমলাপুর মেট্রোরেল টার্মিনাল স্টেশনদ্বয়ে দীর্ঘ মেয়াদে গাড়ি পার্কিং এর ব্যবস্থা রাখা হবে।

১৫। 

 

স্বতন্ত্র বিশেষায়িত MRT Police Force গঠনের উদ্যোগের সর্বশেষ অবস্থা কী?

গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গণভবনে সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০ এবং এর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০-এ অন্তর্ভুক্ত MRT Network-এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নিমিত্ত স্বতন্ত্র বিশেষায়িত MRT Police Force দ্রুত গঠন করতে অনুশাসন প্রদান করেন। এই অনুশাসনের ধারাবাহিকতায় ৩৫৭টি পদ সৃজন এবং ২১টি যানবাহন টিওএন্ডই-তে অন্তর্ভুক্তকরণ সম্বলিত প্রস্তাব জননিরাপত্তা বিভাগ হতে প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় উত্থাপনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রস্তাবটি বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রক্রিয়াধীন আছে।

১৬। 

মেট্রোরেল ব্যবহার সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করতে কি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে?

অত্যাধুনিক গণপরিবহন হিসেবে বাংলাদেশে প্রথম বারের মত MRT বা মেট্রোরেল নির্মিত হতে যাচ্ছে। মেট্রোরেল সম্পর্কে জনসাধারণকে সম্যক ধারণা প্রদানের লক্ষ্যে MRT Line-6 এর উত্তরা ডিপো এলাকায় Metro Rail Exhibition & Information Center (MEIC) নির্মাণ করা হয়েছে। মেট্রো ট্রেনের Mock Up, মূল মেট্রো ট্রেন সেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জনসাধারণকে মেট্রো ট্রেনের যাতায়াত সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা প্রদানের নিমিত্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলাচলে সক্ষম ০২ সেট Mini মেট্রো ট্রেন, মেট্রো স্টেশনের সঙ্গে মিল রেখে Ticket Office Machine (TOM) এবং Ticket Vending Machine (TVM), মেট্রো স্টেশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে Smart Card Based স্বয়ংক্রিয় প্রবেশ এবং বহিরগমন গেইট MEIC-তে স্থাপন করা হয়েছে। MEIC-এর প্রদর্শনী হলে প্রদর্শনের জন্য মেট্রোরেলের অভ্যন্তরে ও মেট্রোরেল স্টেশনে যাত্রীগণের করণীয় এবং বর্জনীয় বিষয়সমূহের সচিত্র উপস্থাপনা সম্বলিত ডিসপ্লে বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। MEIC-এর ভিডিও প্রদর্শনী হলে প্রদর্শনের জন্য ভিডিও এবং এ্যানিমেটেড কার্টুন নির্মাণ করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে মাননীয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী সহসাই Metro Rail Exhibition & Information Center (MEIC) উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পরপরই দেশবাসী বিশেষ করে ঢাকা মহানগরবাসী দর্শনীর বিনিময়ে Metro Rail Exhibition & Information Center (MEIC) পরিদর্শন করতে পারবেন। পরিদর্শনের সময় দক্ষ গাইড দর্শনার্থীদের প্রত্যেকটি বিষয় বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে দিবেন।

১৭। 

মেট্রোরেলে নিয়োজিত জনবলের প্রশিক্ষণের জন্য কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে?

 

মেট্রোরেল সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য নিয়োজিত জনবলের প্রশিক্ষণ প্রদানের নিমিত্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সদয় অনুশাসন প্রদান করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় মেট্রোরেলে নবনিযুক্ত জনবলকে দেশে ওরিয়েন্টেশন কোর্স করানো হয়। ওরিয়েন্টেশন কোর্স শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মচারিগণকে বুনিয়াদি, বিদ্যুৎ, রেলওয়ে এবং টেলিকমিউনিকেশন বিষয়ক মৌলিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে নবনিযুক্তি জনবলকে বিদেশে মেট্রোরেল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কিত বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। মৌলিক প্রশিক্ষণ এবং বিশেষায়িত বৈদেশিক প্রশিক্ষণ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) শেষে নিয়োজিত জনবলকে চলমান বিভিন্ন কন্ট্রাক্ট প্যাকেজসমূহের অধীনে হাতে-কলমে নিবিড় ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়ে থাকে।

১৮। 

DMTCL এ নিজস্ব কোনো Training Academy গড়ে তোলার পরিকল্পনা আছে কি না?

 

DMTCL এ নিজস্ব Training Academy গড়ে তোলার লক্ষ্যে DMTCL Training Academy এবং Dormitory Building এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী DMTCL Training Academy-কে Center of Excellence হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে Training Academy এর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করে স্থাপন করা হয়েছে। জনবল নিয়োগের কার্যক্রম চলছে।

১৯। 

মেট্রোরেলে সবাই যাতায়ত করতে পারবেন কী?

ঢাকা মেট্রোরেলে বিশেষ শারীরিক চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য উন্নত বিশ্বের ন্যায় প্রয়োজনীয় সুবিধাদি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। হুইল চেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য নিম্নতর উচ্চতায় টিকেটিং বুথ, অপেক্ষাকৃত প্রশস্ত স্বয়ংক্রিয় ভাড়া সংগ্রহ গেইট, হুইল চেয়ার ব্যবহারে সামঞ্জস্যপূর্ণ ওয়াশ রুম, মেট্রো ট্রেনের উভয় প্রান্তের কোচের অভ্যন্তরে হুইল চেয়ারের জন্য নির্ধারিত স্থান, হুইল চেয়ার ব্যবহার বান্ধব লিফ্‌ট ইত্যাদি। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য স্টেশন এলাকা, লিফ্‌ট এবং ট্রেনের অভ্যন্তরে অডিও ইনফরমেশন সিস্টেম; ব্লাইন্ড স্টিক দ্বারা সহজে অনুধাবনযোগ্য Tactile টাইলস্‌ দ্বারা নির্মিত আলাদা রংয়ের চলার পথ; লিফ্‌টের অভ্যন্তরে ব্রেইল (Braille) বাটন ইত্যাদি। বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভিজুয়াল ডিসপ্লে/মনিটরে সেবা ও চলাচলের দিকনির্দেশনা ইত্যাদি। মেট্রোরেলে মহিলা যাত্রীগণের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্য যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্য প্রতি মেট্রো ট্রেনে একটি স্বতন্ত্র মহিলা কোচ থাকবে। বয়স্ক যাত্রীগণের জন্য মেট্রো ট্রেনের কোচের অভ্যন্তরে আসন সংরক্ষিত থাকবে।  কাজেই মেট্রোরেলে সবাই নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়ত করতে পারবেন।

২০। 

মহিলা ও শিশু যাত্রীদের জন্য মেট্রোরেলে কি ধরণের সুবিধাদি সংযোজিত আছে?

মেট্রোরেলে মহিলা যাত্রীগণের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্য যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্য প্রতি মেট্রো ট্রেনে একটি স্বতন্ত্র মহিলা কোচ থাকবে। মেট্রো স্টেশনগুলোতে মহিলা যাত্রীদের জন্য পৃথক বাথরুমের সংস্থান আছে এবং তাতে শিশুদের ডায়াপার পরিবর্তনের সুবিধার্থে বিশেষ ব্যবস্থা সংযোজিত আছে।

২১। 

মেট্রোরেলে তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহার কিরূপ?

 

সরকার কর্তৃক প্রণীত e-Service Roadmap Plan-2021 এবং জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালা ২০১৮ এর বাস্তবায়ন কর্মপরিকল্পনা মোতাবেক ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড এর জন্য Enterprise Resource Management System (ERMS) সংগ্রহের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে। দ্রুত Project Documents আদান প্রদানের লক্ষ্যে Cloud Based ACONEX সফটওয়্যার ব্যবহার করে ডিএমটিসিএলকে Electronic Document Management System (EDMS) এর আওতায় আনা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেল স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনার জন্য Communication Based Train Control System (CBTC) চালুর নিমিত্ত Automatic Train Operation (ATO), Automatic Train Protection (ATP), Automatic Train Supervision (ATS) ও Moving Block System (MBS) স্থাপন করে টেস্টিং এর কাজ চলছে। এরই অংশ হিসেবে Public Information System (PIS) এর আওতায় Automatic Next Station Display and Announcement Inside Coach এবং Automatic Display and Announcement of Train Arrival Time in Station সংগ্রহ করে স্থাপনের কাজ চলছে। মেট্রোরেলে যাতায়াতকারী যাত্রীদের নিরাপত্তার নিমিত্ত Synchronized Platform Screen Door (PSD) and Train Door এবং Internet Protocol (IP) Camera System সংগ্রহ শেষে স্থাপনের কাজ চলছে। যাত্রীদের নিরবচ্ছিন্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াতের সুবিধার্থে Smart Card Based MRT Pass এবং Automatic Fare Collection (AFC) System সংগ্রহ করে স্থাপনের কাজ চলছে। Metro Rail Citizen Apps (MRCA) প্রবর্তনের উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মেট্রোরেলে যাতায়াতকারী যাত্রীগণ একই MRT Pass ব্যবহার করে মেট্রোরেলের সকল লাইনে স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারবেন। Mobile Apps এবং Web Application ব্যবহার করে MRT Pass সহজেই রিচার্জ করা যাবে। মেট্রোরেলের প্রতিটি স্টেশনে Ticket Office Machine (TOM) এবং Ticket Vending Machine (TVM) থাকবে। উভয় Machine ব্যবহার করে MRT Pass রিচার্জ করা যাবে। MRT Pass ব্যবহার করে যাত্রীগণ মেট্রোরেল ছাড়াও বিভিন্ন পরিবহন মাধ্যম যেমন-বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট, বাংলাদেশ রেলওয়ে, বিআরটিসি’র বাস, বিআইডব্লিউটিসি’র নৌ-যান ও চুক্তিবদ্ধ বেসরকারি বাসে স্বাচ্ছন্দ্যে ও নিরবচ্ছিন্নভাবে যাতায়াত করতে পারবেন। MRT Pass-কে Rapid Pass Compatible করা হয়েছে বিধায় Rapid Pass ব্যবহার করেও মেট্রোরেলে যাতায়াত করা যাবে। যে সকল স্থানে MRT Pass রিচার্জ করা করা যাবে সেই সকল স্থানে Rapid Pass রিচার্জ করা যাবে এবং যে সকল স্থানে Rapid Pass রিচার্জ করা করা যাবে সেই সকল স্থানে MRT Pass রিচার্জ করা যাবে।

২২। 

গুলশান হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে অনাকাঙ্খিত ঘটনায় নিহত জাপানী নাগরিকদের স্মরণে কোনো স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে কী?

 

গত ০১ জুলাই ২০১৬ তারিখ ঢাকার গুলশান হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে এক অনাকাঙ্খিত ঘটনায় ০৭(সাত) জন জাপানী নাগরিক নিহত হন। তন্মধ্যে ৫(পাঁচ) জন পুরুষ ও ২(দুই) জন মহিলা। নিহত জাপানী নাগরিকগণ পরামর্শক হিসেবে Preparatory Study of Dhaka Mass Rapid Transit Development Project এ বাংলাদেশে কর্মরত ছিলেন। নিহত জাপানী নাগরিকগণ হলেন: Hashimoto Hideki, Kurosaki Nobuhiro, Ogasawara Koyo, Okamura Makoto, Sakai Yuko, Shimodaira Rui এবং Tanaka Hiroshi. সরকার নিহত এই ০৭(সাত) জন জাপানী নাগরিকের স্মরণে Memorial Monument স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। এরই ধারাবাহিকতায় উত্তরা ডিপো এলাকায় নির্মিত Metro Rail Exhibition and Information Center-এ গত ১৫ জুন ২০২২ তারিখ Memorial Monument স্থাপন করা হয়েছে। MRT Line-1 এবং MRT Line-5: Northern Route এর নতুন বাজার আন্তঃলাইন সংযোগ স্টেশন নির্মাণের পর Memorial Monument টি নতুন বাজার মেট্রোরেল স্টেশনে স্থানান্তর করা হবে।

২৩। 

ঢাকা মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক নির্মাণের ফলে কি ধরণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে?

অত্যাধুনিক নগর পরিবহন হিসেবে মেট্রোরেল বিভিন্ন প্রকৌশল বিভাগের একটি সমন্বিত কার্যক্রম। ঢাকা মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক নির্মাণের নিমিত্ত সরকারের সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০ বাস্তবায়িত হওয়ার পর শুধু ডিএমটিসিএল এর অধীনে নতুন ১২ হাজার গ্র্যাজুয়েট প্রকৌশলী ও মাঠ প্রকৌশলীদের চাকুরীর সংস্থান হবে। এরই ধারাবাহিকতায় Forward ও Backward Linkage শিল্প স্থাপন ও সেবা কার্যক্রমের মাধ্যমে আরও তিনগুণ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলশ্রুতিতে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য দেশের অভ্যন্তরে দক্ষ জনশক্তি তৈরী হবে। এই দক্ষ জনশক্তি দেশের চাহিদা পূরণ করেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সম্প্রসারমান মেট্রোরেলে কাজ করতে পারবেন। এতে বাংলাদেশের Remittance প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

২৪।  

আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে মেট্রোরেলের অবদান কিরূপ?

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু। দেশের সম্পূর্ণ জিডিপিতে ঢাকার অবদান প্রায় ৩৬ শতাংশ। ঢাকার জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ৫০ হাজার। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ২০১০ সালে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ৫,৯৩,০৭৭টি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩০ জুন ২০২২ তারিখ ১৮,৭৭,৪৭৪ টিতে উন্নীত হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর সড়ক ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৬.১২ কিলোমিটার। এতে মহানগরীর যানজট তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং ক্রমাবনতি হচ্ছে। এই যানজট এবং এর ফলশ্রুত প্রভাবে বার্ষিক প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞগণ অভিমত ব্যক্ত করছেন। মেট্রোরেল চালু হলে যানজট এবং এর ফলশ্রুত প্রভাবে যে ক্ষতি হচ্ছে তা সাশ্রয় হবে। এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, MRT Line-6 চালু হওয়ার পর মেট্রোরেল পরিচালনাকালে দৈনিক Travel Time Cost বাবদ প্রায় ৮ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকা এবং Vehicle Operation Cost বাবদ প্রায় ১ কোটি ১৮ লক্ষ টাকা সাশ্রয় হবে। এই সাশ্রয়কৃত অর্থ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। GDP Growth Rate বৃদ্ধি পাবে।

২৫। 

মেট্রোরেলের পরিবেশগত প্রভাব কিরূপ?

মেট্রোরেল সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ চালিত বিধায় কোনো ধরণের জীবাশ্ম ও তরল জ্বালানী ব্যবহৃত হবে না। ফলে বায়ু দূষণ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মেট্রোরেল অল্প সময়ে অধিক সংখ্যায় যাত্রী পরিবহন করবে বিধায় ছোট ছোট যানবাহনের ব্যবহার বহুল সংখ্যায় হ্রাস পেয়ে জীবাশ্ম ও তরল জ্বালানীর ব্যবহার হ্রাস পাবে। এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, শুধু এমআরটি লাইন-৬ চালু হলে এই রুটে যানবাহনের সংখ্যা কমার মাধ্যমে বছরে ২,০২,৭৬২ টন কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে। বায়ু দুষণ হ্রাসে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। মেট্রোরেলের Railway Track এর নিচে Mass Spring System (MSS) থাকবে। Continuous Welded Rail (CWR) ব্যবহার করা হবে। উড়াল মেট্রোরেলের ভায়াডাক্টের উভয় পার্শ্বে শব্দ প্রতিবন্ধক দেয়াল থাকবে এবং পাতাল মেট্রোরেলের টানেল সংলগ্ন মাটি শব্দ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করবে। ফলশ্রুতিতে মেট্রোরেলে শব্দ ও কম্পন দূষণ মাত্রা মানদন্ড সীমার অনেক নিচে থাকবে। সার্বিকভাবে পরিবেশ দূষণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বরং পরিবেশ উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।



Share with :

Facebook Facebook