Text size A A A
Color C C C C
Last updated: 30th September 2021

Frequently Asked Questions (FAQs) of MRT Line-6

হালনাগাদের তারিখ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

 

ক্রম

জিজ্ঞাস্য

উত্তর

১.

বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেল ঢাকা মহানগরী ও তৎসংলগ্ন পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসনে ও পরিবেশ উন্নয়নে কী ভূমিকা রাখবে?

এমআরটি লাইন-৬ বা বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেলে ঘন্টায় ৬০ হাজার এবং দিনে ৫ লক্ষ যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। ৬টি কোচ সম্বলিত প্রতিটি একমুখী মেট্রো ট্রেন প্রতিবারে ৩৮ মিনিটে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ১৬ টি স্টেশনে থেমে সর্বোচ্চ ২,৩০৮ জন যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। এতে অল্প সময়ে অধিক সংখ্যায় যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। ছোট ছোট যানবাহনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় হ্রাস পাবে। জীবাশ্ম ও তরল জ্বালানীর ব্যবহার কম হবে। ঢাকা মহানগরীর জীবনযাত্রায় ভিন্ন মাত্রা ও গতি যোগ হবে। যানজট বহুলাংশে হ্রাস পাবে। মহানগরবাসীর কর্মঘন্টা সাশ্রয় হবে। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সাশ্রয়কৃত কর্মঘন্টা ব্যবহার করা যাবে।

বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেল সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ চালিত বিধায় কোন ধরণের জীবাশ্ম ও তরল জ্বালানী ব্যবহৃত হবে না। ফলে বায়ু দূষণ হওয়ার কোন সুযোগ নেই। Railway Track এর নিচে Mass Spring System (MSS) থাকবে। Continuous Welded Rail (CWR) ব্যবহার করা হবে। উড়াল মেট্রোরেলের ভায়াডাক্টের উভয় পার্শ্বে শব্দ প্রতিবন্ধক দেয়াল থাকবে। ফলশ্রুতিতে মেট্রোরেলে শব্দ ও কম্পন দূষণ মাত্রা মানদন্ড সীমার অনেক নিচে থাকবে। সার্বিকভাবে পরিবেশ দূষণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বরং পরিবেশ উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

২.

এমআরটি লাইন-৬ বা বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেল নির্মাণের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা কী?

ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৬) বা বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেল এর ডিপিপি ২০১২ থেকে ২০২৪ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য একনেক কর্তৃক অনুমোদিত হয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিশেষ উদ্যোগে নির্ধারিত সময়ের পূর্বে বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেল চালুর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এমআরটি লাইন-৬ এর নির্মাণ কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে।  কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বর ২০২২ মাসে ঢাকা মহানগরবাসী বাংলাদেশের প্রথম মেট্রো ট্রেনে ন্যূনতম উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলাচল করতে পারবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

৩.

এমআরটি লাইন-৬ বা বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেলের ভাড়া কিভাবে নির্ধারণ করা হবে?

মেট্রোরেল আইন, ২০১৫ এর ধারা ১৭ ও ১৮ এবং মেট্রোরেল বিধিমালা, ২০১৬ এর বিধি ২১ ও ২২ অনুযায়ী এমআরটি লাইন-৬ বা বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেলের ভাড়া নির্ধারণ করা হবে। মেট্রোরেলের পরিচালনা ব্যয় ও জনসাধারণের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনাপূর্বক গঠিতব্য কমিটি সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ভাড়ার হার সুপারিশ করবে। সরকার ভাড়ার হার চূড়ান্ত করবে। ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ভাড়ার হার সুপারিশ করার জন্য ৭ (সাত) সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

৪.

এমআরটি লাইন-৬ বা বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেলের প্রাক্কলিত ব্যয় ও অর্থের উৎস কী?

বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেল বা এমআরটি লাইন-৬ এর প্রাক্কলিত ব্যয় হল:

 

            মোট                    : ২১,৯৮৫.০৭ কোটি টাকা

            প্রকল্প সহায়তা           : ১৬,৫৯৪.৫৯ কোটি টাকা

            জিওবি                  : ৫,৩৯০.৪৮ কোটি টাকা 

উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা Japan International Cooperation Agency (JICA) প্রকল্প সহায়তা প্রদান করছে।

৫.

এমআরটি লাইন-৬ বা বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেলের মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ কী কী?

উদ্দেশ্য                         :   ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসন ও পরিবেশ উন্নয়নে দ্রুতগামী, নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, সময়-সাশ্রয়ী, বিদ্যুৎ চালিত, দূরনিয়ন্ত্রিত ও পরিবেশবান্ধব অত্যাধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রবর্তন

গুরুত্ব                              :    Fast Track

দৈর্ঘ্য                               :    ২০.১০ কিলোমিটার

অবকাঠামোর ধরণ                  :    উড়াল

রুট এ্যালাইনমেন্ট                  :    উত্তরা ৩য় পর্ব - পল্লবী - রোকেয়া সরণির পশ্চিম পার্শ্ব দিয়ে খামারবাড়ী হয়ে

                                       ফার্মগেট - হোটেল সোনারগাঁও - শাহবাগ - টিএসসি - দোয়েল চত্বর - 

                                       তোপখানা রোড - বাংলাদেশ ব্যাংক

স্টেশনের সংখ্যা                    :    ১৬ টি

স্টেশনসমূহ                        :    উত্তরা উত্তর - উত্তরা সেন্টার - উত্তরা দক্ষিণ -  পল্লবী -  মিরপুর ১১ - মিরপুর ১০ - কাজীপাড়া - শেওড়াপাড়া - আগারগাঁও - বিজয় সরণি - ফার্মগেট - কারওয়ান বাজার - শাহবাগ - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় - বাংলাদেশ সচিবালয় - মতিঝিল

যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা (২০২২)   :   ঘন্টায় ৬০ হাজার ও দৈনিক ৫ লক্ষ

মেট্রো ট্রেনের সংখ্যা               :    ৬ কোচ বিশিষ্ট ২৪ সেট। তবে ভবিষ্যতে ৮ কোচে উন্নীত করা যাবে

কোচের যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা    :    ক) মাঝের ৪টি কোচের প্রতিটিতে সর্বোচ্চ ৩৯০ জন

                                        খ) ট্রেইলার কোচের প্রতিটিতে সর্বোচ্চ ৩৭৪ জন

প্রতিটি মেট্রো ট্রেনে সর্বোচ্চ

যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা            :    ২৩০৮ জন

মেট্রো ট্রেনের ফ্রিকোয়েন্সি          :    ৩ মিনিট ৩০ সেকেন্ড (পিক আওয়ার)

মেট্রো ট্রেনের পরিচালন ব্যবস্থা     :    Communication Based Train Control (CBTC) System

সর্বোচ্চ পরিকল্পিত গতি            :    ১০০ কিলোমিটার/ঘন্টা

মেট্রো ট্র্যাকের ধরণ                :    Dual Continuous Welded Rail

গেজ                               :    স্ট্যান্ডার্ড গেজ (১৪৩৫ মিলিমিটার)

যাতায়াতের সময়                   :    ১৬টি স্টেশনে থেমে ৩৮ মিনিট (উত্তরা থেকে মতিঝিল)

নির্মাণ কাজের উদ্বোধন             :    ২৬ জুন ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ

৬.

নির্মাণাধীন এমআরটি লাইন-৬ মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বর্ধিতকরণের অগ্রগতি কী?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১.১৬ কিলোমিটার MRT Line-6 বর্ধিত করার নিমিত্ত অংশীজনসভা, Social Study, Household Survey, Land Acquisition Plan (LAP), Resettlement Acton Plan (RAP), Environment Impact Assessment (EIA) এবং Basic Design সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে Detailed Design ও ভূমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম চলমান। MRT Line-6 মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বর্ধিত করা হলে এই লাইনের মোট দৈর্ঘ্য ২১.২৬ কিলোমিটারে এবং স্টেশন সংখ্যা ১৭টিতে উন্নীত হবে। ফলশ্রুতিতে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ও পার্শ্ববর্তী এলাকার যাত্রীগণ মেট্রোরেলে যাতায়াত করার সুবিধা পাবেন। 

৭.

মেট্রোরেলে মহিলা যাত্রীদের নিরাপদে যাতায়াতের জন্য বিশেষ কোন সুবিধা থাকবে কী?

মেট্রোরেলে নারী যাত্রীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করার নিমিত্ত প্রতিটি ট্রেনের একটি করে কোচ শুধুমাত্র নারী যাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এতে প্রতি ট্রেনে প্রতিবার সর্বোচ্চ ৩৯০ জন নারী যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। নারী যাত্রীরা ইচ্ছা করলে অন্য কোচেও যাতায়াত করতে পারবেন।  

৮.

মেট্রোরেলে যাতায়াতের জন্য টিকেট পদ্ধতি কেমন হবে?

এমআরটি লাইন-৬ বা বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেলে Single Journey Ticket এবং MRT Pass ব্যবহার করে যাতায়াত করা যাবে। Rapid Pass ব্যবহার করেও যাত্রীসাধারণ স্বাচ্ছন্দ্যে মেট্রোরেলে যাতায়াত করতে পারবেন। Ticket Office Machine (TOM) হতে বিক্রয়কারীর সহায়তায় Single Journey Ticket এবং MRT Pass ক্রয় করা যাবে। Ticket Vending Machine (TVM) হতে যাত্রীসাধারণ নিজে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতেও Single Journey Ticket ক্রয় এবং MRT Pass Top-up করতে পারবেন। Mobile ও Web Applications-এর মাধ্যমেও MRT Pass Top-up করা যাবে। TOM ও TVM এর মাধ্যমে টিকেট  ক্রয় এবং Top-up-এর সময় নগদ অর্থের পাশাপাশি Credit/Debit Card দিয়ে মূল্য পরিশোধ করা যাবে। ভ্রমন দূরত্ব অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করে Single Journey Ticket ক্রয় করা যাবে। MRT Pass এবং Rapid Pass হতে ভ্রমন দূরত্ব অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত ভাড়া কর্তন করা হবে। যে কোন সময় যাত্রীসাধারণ MRT Pass ফেরত দিয়ে জমানতের অর্থ ও অব্যবহৃত অর্থ ফেরত নিতে পারবেন।  MRT Pass হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে জামানত পরিশোধ করে নতুন MRT Pass গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে অব্যবহৃত অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন MRT Pass এ স্থানান্তরিত হবে। MRT Pass হারিয়ে গেলে নিকটস্থ স্টেশনের TOM অপারেটরকে অবহিত করে কার্ডের অবৈধ ব্যবহার বন্ধ করা যাবে। 

৯.

মেট্রোরেলে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের (Persons with disability) যাতায়াতের জন্য কী কী সুবিধাদি থাকবে?

এমআরটি লাইন-৬ বা বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেলে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের (Persons with disability) যাতায়াতের জন্য মেট্রো ট্রেনে এবং মেট্রো স্টেশনে আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা সংযোজিত থাকবে। হুইল চেয়ার ব্যবহারকারী ও খর্বকায় ব্যক্তিগণ যাতে Ticket Office Machine (TOM) দ্বারা সহজে টিকেট সংগ্রহ করতে পারেন সে জন্য অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতায় টিকেট বুথ থাকবে। একইভাবে হুইল চেয়ার ব্যবহারকারী যাত্রীগণ Ticket Vending Machine (TVM) ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজের টিকেট সংগ্রহ করতে পারেন সে ব্যবস্থাও থাকেবে। হুইল চেয়ার ব্যবহারকারী যাত্রীদের পেইড জোনে সহজে প্রবেশ এবং বাহিরের নিমিত্ত হুইল চেয়ারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় ভাড়া পরিশোধের প্রশস্ত গেইট থাকবে। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের লিফ্‌টে সহজে উঠা-নামার সুবিধার্থে লিফ্‌টের অভ্যন্তরে ধরার হাতল, নিম্ন উচ্চতায় কন্ট্রোল প্যানেল ও নিজের অবস্থান বোঝার জন্য আয়না থাকবে। লিফ্‌টের কন্ট্রোল প্যানেলে ব্রেইল পদ্ধতিতে নির্দেশনাও থাকবে। স্বাচ্ছন্দ্যে স্টেশনে উঠা-নামার জন্য ঢালু পথ (Ramp) থাকবে। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য Concourse এলাকায় বিশেষ সুবিধা সম্বলিত ও সজ্জিত ওয়াশ রুমের ব্যবস্থা থাকবে। মুক ও বধির যাত্রীগণ ডিজিটাল নির্দেশিকা অনুসরণ করে স্বাচ্ছন্দ্যে মেট্রো স্টেশনে ও মেট্রো ট্রেনে যাতায়াত করতে পারবেন। অন্ধ যাত্রীদের মেট্রো স্টেশনে চলাচলের জন্য ব্লাইন্ড স্টিক ব্যবহারের সুবিধার্থে হলুদ রঙয়ের ট্যাকটাইল পথের ব্যবস্থা রাখা হবে। টয়লেট, লিফ্‌ট ও অগ্রাধিকার আসন সহজে বোঝার জন্য প্লাটফর্ম ও মেট্রো ট্রেনে শনাক্তকারী চিহ্ন থাকবে। স্টেশন এলাকায় এবং মেট্রো ট্রেনের অভ্যন্তরে অডিও এবং ভিজুয়াল ইনফরমেশন সিস্টেম থাকবে। এ সিস্টেমের মাধ্যমে অন্যান্য যাত্রীদের ন্যায় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন যাত্রীরাও শোনা ও দেখার মাধ্যমে সহজে মেট্রো ট্রেনে যাতায়াত করতে পারবেন। যাত্রীগণের পদস্খলনজনিত দুর্ঘটনা রোধ এবং হুইল চেয়ার ও ব্লাইন্ড স্টিক ব্যবহারের সুবিধার্থে মেট্রো ট্রেনের কোচের ফ্লোর এবং স্টেশনের প্লাটফর্ম-এর উপরিভাগ একই সমতলে রাখার নিমিত্ত মেট্রো কোচের নিচে অত্যাধুনিক এয়ার ব্যাগ সাস্‌পেনশন সংযোজন করা হচ্ছে। মেট্রো কোচের বহির্ভাগ এবং প্লাটফর্মের মধ্যে সর্বত্র এমনভাবে ফাঁকা রাখা হবে যাতে যাত্রীগণ নিরাপদে ও সহজে মেট্রো ট্রেনে উঠা-নামা করতে পারেন।

১০.

মেট্রো স্টেশনগুলোর Concourse দিয়ে রাস্তার এপার থেকে ওপারে যাওয়া-আসা করা যাবে কী?  

এমআরটি লাইন-৬ বা বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেল রুটে মোট ১৬ টি মেট্রো স্টেশন থাকবে। প্রতিটি স্টেশনে Concourse লেভেল থাকবে। Concourse লেভেলে উঠার জন্য প্রতিটি স্টেশনে সিঁড়ি, লিফ্‌ট এবং এস্কেলেটর থাকবে। এ সিঁড়ি, লিফ্‌ট এবং এস্কেলেটর ব্যবহার করে Concourse লেভেল দিয়ে রাস্তার এপার থেকে ওপারে যাওয়া যাবে। তবে পেইড জোন এলাকায় ও প্লাটফর্মে যাওয়া যাবে না। পথচারীগণ রাস্তা পারাপারের জন্য এ ব্যবস্থাকে ফুট ওভারব্রীজের অতিরিক্ত সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন।  

১১.

মেট্রোরেল পরিচালনায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কী কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে?

মেট্রোরেল পরিচালনায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে উত্তরা ডিপো এবং মতিঝিল এলাকায় দুটি রিসিভিং সাবস্টেশন থাকবে। মতিঝিল রিসিভিং সাবস্টেশনে পাওয়ার গ্রীড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (পিজিসিবি) এর মানিকনগর গ্রীড সাবস্টেশন হতে ১৩২ কেভি এর দুইটি পৃথক সার্কিট এবং উত্তরা রিসিভিং সাবস্টেশনে পিজিসিবি এর টংগী গ্রীড সাবস্টেশন হতে ১৩২ কেভি এর একটি সার্কিট ও ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো) এর উত্তরা গ্রীড সাবস্টেশন হতে ১৩২ কেভি এর অপর একটি সার্কিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহণ করা হবে। উভয় রিসিভিং সাবস্টেশনে ব্যাকআপ হিসেবে একটি করে অতিরিক্ত (redundant) ট্রান্সফর্মার থাকবে। উপরন্তু পুরাতন বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থিত ডেসকো এর ৩৩ কেভি সাবস্টেশন হতে আগারগাঁও মেট্রো স্টেশনে ৩৩ কেভি বৈদ্যুতিক সংযোগ থাকবে। ফলে মেট্রোরেল পরিচালনায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কোনো কারণে কোনো সময় জাতীয় গ্রীড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া না গেলে মেট্রোরেলের Energy Storage System (ESS) হতে বিদ্যুৎ সরাবরাহ করে মেট্রো ট্রেনকে নিকটবর্তী স্টেশনে নিয়ে আসা হবে। উল্লেখ্য, Energy Storage System (ESS) মূলতঃ ব্যাটারি ব্যাকআপ সিস্টেম যা মেট্রো ট্রেনের Regenerative Braking Energy দ্বারা নিয়মিত চার্জ হতে থাকবে। এমআরটি লাইন-৬ বা বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেল পরিচালনায় Overhead Catenary System (OCS)-এ ১৫০০ ভোল্ট ডিসি ব্যবহৃত হবে। মেট্রো ট্রেনসমূহ Pantograph এর সাহায্যে OCS হতে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ গ্রহণ করবে।

১২.

বায়ু, শব্দ ও পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণে এমআরটি লাইন-৬ নির্মাণকালে কী কী ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?

MRT Line-6 এর প্রতিটি প্যাকেজের নিয়োজিত ঠিকাদার Construction Environmental Management Plan (CEMP) অনুসরণে পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয়সমূহ যেমন: Air, Water, Noise, Waste Management, Dust Control, Drain and Footpath Management ইত্যাদির বাস্তবায়ন ও মনিটর করে থাকে। General Consultant ও DMTCL উভয়ই ঠিকাদারের কার্যক্রম নিয়মিত মনিটর করে। এছাড়া Independent Monitoring Group (IMG) প্রতিটি প্যাকেজের ত্রৈমাসিক পরিবীক্ষণ করে থাকে। বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে রুট এ্যালাইনমেন্টে খননের ফলে উত্তোলিত মাটি, কংক্রীট ও অন্যান্য সামগ্রী দিনের বেলায় ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হয় ও মধ্যরাতে ঢেকে পরিবহন করে নির্ধারিত জায়গায় Dumping করা হয়। রুট এ্যালাইনমেন্ট ও সংলগ্ন সড়কে দিনে ন্যূনতম তিনবার Sprinkler Vehicle দিয়ে পানি ছিটানো হয়। মাটি/বালির ট্রাক লোড করার পর চাকা ওয়াশ করে পরিবহন করা হয়। মাসিক ও ত্রৈমাসিক বায়ুর মান মনিটরের মাধ্যমে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বায়ুমান নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য করা হয়। সর্বশেষ ত্রৈমাসিক পরিবীক্ষণ অনুযায়ী Route Alignment এর Air Quality Index (AQI) এবং PM2.5 গ্রহণযোগ্য মাত্রার মধ্যে রয়েছে।

শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে Heavy Equipment এর Third Party Competency Certificate গ্রহণ করা হয়। মটরযানে ও Equipment-এ Noise Control Device সংযোজন করা হয়েছে। Construction Machinery ও Vehicle এর নিয়মিত Servicing ও Maintenance করা হয়। প্রকল্পে ব্যবহৃত Machinery, Equipment ও Vehicle এ Competency Green Tag সংযোজন করা আছে। নির্মাণ এলাকায় মাসিক ও ত্রৈমাসিক শব্দের মান রেকর্ড করা হয়। 

পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণে Construction Yard ও Batching Plant এলাকার অভ্যন্তরীণ ড্রেনের পানি পরীক্ষা করে তা স্বাভাবিক মানমাত্রায় এনে অবমুক্ত করা হয়। Oil Spillage রোধে জেনারেটরে ট্রে বসানো হয়েছে ও তেলের ডিপোতে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। Chemicals সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। মাসিক ও ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে Construction Site-এর পানি পরীক্ষা করে প্রয়োজনে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। রুট এ্যালাইনমেন্ট সংলগ্ন ড্রেনসমূহ পরিষ্কার করে রাখা হয়। মেট্রোরেলের রুট এ্যালাইনমেন্ট, ডিপো, কনস্ট্রাকসন ইয়ার্ড, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য স্থাপনা ও নির্মাণ এলাকায় এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধে উদ্ভাবনী আইডিয়া পাইলটিং করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

১৩.

মেট্রোরেল ও মেট্রোরেলে যাতায়াতকারী যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে কী ধরণের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত আছে?

বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেলের নিয়ন্ত্রণ ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে Communication Based Train Control (CBTC) System অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই লক্ষ্যে Automatic Train Operation (ATO), Automatic Train Protection (ATP), Automatic Train Supervision (ATS) ও Moving Block System (MBS) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মেট্রো ট্রেনে যাতায়াতকারী যাত্রীদের নিরাপত্তার নিমিত্ত Synchronized Platform Screen Door (PSD) and Train Door এবং Internet Protocol (IP) Camera System অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আপৎকালীন মেট্রোরেলের অভ্যন্তর থেকে বাহির হওয়ার জন্য জরুরি বহির্গমন দরজা রাখা হয়েছে। মেট্রো স্টেশন, রুট এ্যালাইমেন্ট ও মেট্রো ট্রেনে অনাকাঙ্খিত অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা হিসেবে স্বয়ংক্রিয় Sprinkler ও Water Hydrant সংযোজনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সর্বোপরি, মেট্রোরেলে যাতায়াতকারী যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে স্বতন্ত্র বিশেষায়িত MRT Police Force গঠনের কার্যক্রম চলমান আছে।

১৪.

ভাড়া ব্যতীত রাজস্ব আয়ের জন্য এমআরটি লাইন-৬ বা বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেলের আওতায় কী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে?

 

বিভিন্ন দেশের মেট্রোরেল পরিচালনার অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, শুধুমাত্র ভাড়ার আয় হতে লাভজনকভাবে মেট্রোরেল পরিচালনা করা যায় না। মেট্রোরেল পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলো মেট্রোরেল পরিচালনার পাশাপাশি মেট্রোরেলের আন্তঃলাইন সংযোগ স্টেশন, ডিপো ও প্রধান প্রধান স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ক্রমান্বয়ে Transit Oriented Development (TOD) Hub এবং Station Plaza হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করে। মেট্রোরেলের ভাড়া জনগণের সাধ্যের মধ্যে রাখার জন্যও Transit Oriented Development (TOD) Hub এবং Station Plaza নির্মাণ করা হয়ে থাকে। এ অভিজ্ঞতা থেকে Dhaka Mass Transit Company Limited (DMTCL) প্রতিটি এমআরটি লাইনের রুট এ্যালাইনমেন্টে Non-fare Business হিসেবে ন্যূনতম একটি করে TOD Hub নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় MRT Line-6 এর উত্তরা সেন্টার স্টেশন সংলগ্ন ভূমিতে TOD Hub নির্মাণের নিমিত্ত রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর নিকট থেকে ২৮.৬১৭ একর ভূমি বরাদ্দ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে নিয়োজিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে এই TOD Hub এর Layout Plan প্রস্তুতের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এটিই হবে বাংলাদেশের প্রথম TOD Hub. এ ছাড়াও বিভিন্ন Transport Mode ব্যবহার করে যাত্রীদের মেট্রোরেল স্টেশনে আসা-যাওয়ার সুবিধার্থে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) MRT Network-এর সুবিধাজনক স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ক্রমান্বয়ে Station Plaza গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় MRT Line-6 এর উত্তরা উত্তর, আগারগাঁও, ফার্মগেইট ও কমলাপুর মেট্রোরেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় Station Plaza নির্মাণের জন্য প্রাথমিকভাবে ভূমি চিহ্নিত করা হয়েছে। MRT Line-6 এর প্রতিটি মেট্রোরেল স্টেশনের Concourse Level-এ Commercial Space রাখা হয়েছে।

১৫.

এমআরটি লাইন-৬ বা বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেল নির্মাণকালে পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে?

এমআরটি লাইন-৬ বা বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেল নির্মাণকালে রুট এ্যালাইনমেন্ট বরাবর জননিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা রোধে এবং বৃহৎ আকারের ভারি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সুবিধার্থে ১১ মিটার সড়ক Hard Barrier দিয়ে occupy করা হয়েছে। এছাড়াও ট্র্যাফিক ব্যাবস্থাপনায় ট্র্যাফিক পুলিশকে সহায়তা করার জন্য Flag Man নিয়োগ করা হয়েছে। যে সকল স্থানে নির্মাণ কাজ শেষ হচ্ছে সেই সকল স্থানের Hard Barrier পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।

 



Share with :

Facebook Facebook